×
  • ঢাকা
  • সোমবার, ১৭ মে, ২০২১, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
শিশু মিমের আকুতি

দাদীরে কবর দেয়ার আগেই মা-বাবা মরে গেলো


শফিক স্বপন | মাদারীপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ৪, ২০২১, ০১:২০ পিএম দাদীরে কবর দেয়ার আগেই মা-বাবা মরে গেলো

শিশু মীম আকুতি করে বলে দাদিরে কবর দেয়ার আগেই মা- বাবা মরে গেলো, আমি এহন কার কাছে থাকবো।

গত শনিবার (১ মে) দিবাগত রাতে খুলনায় মীমের দাদি মারা যায়। সেই খবর পেয়ে পরিবারের সবাই খুলনায় যাচ্ছিলেন ঢাকা থেকে। কিন্তু পদ্মা নদীতে দুর্ঘটনায় দাদির লাশ দাফনের আগে পরিবারের সবাইকে হারালো মীম। এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে মীমের বাবা মনির মিয়া (৩৮), মা হেনা বেগম (৩৬), বোন সুমী আক্তার (৫) ও রুমি আক্তার (৩)। বেঁচে গেছে শুধু মীম। 

খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার বারখালী গ্রামের মনির মিয়া ও হেনা বেগমের ৯ বছরের সন্তান মীম।

আরো পড়ুন: বগুড়ায় পুলিশ ও শত শত মানুষের সামনেই যুবকের আত্মহত্যা

গত সোমবার (৩ মে) ভোররাতে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ীর বাংলাবাজার পুরনো ঘাটে পদ্মা নদীতে বালুবোঝাই বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে স্পিডবোট ডুবে তিন শিশু ও দুই নারীসহ ২৬ জন নিহত হয়।

কাঁঠালবাড়ীর হাজী ইয়াসিন মোল্লাকান্দি দোতার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাঙ্গণে লাশ এনে রাখা হয়। সেখানে স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারি হয়ে ওঠে।

দুর্ঘটনায় স্পিডবোট দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ সময় ছিটকে নদীর তীরে বালুর মধ্যে পড়ে মীম। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। দুপুর ৩টার দিকে তাকে নিয়ে আসা হয় বিদ্যালয়ে প্রাঙ্গণে। সেখানে রাখা ছিলো দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ। মীম বাবা, মা ও দুই বোনের মরদেহ শনাক্ত করে। তখন কান্নায় ভেঙে পড়ে মীম। মীমের কান্না দেখে অনেকে অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি।

ইউসুফ / একটিভ নিউজ