×
  • ঢাকা
  • শনিবার, ১২ জুন, ২০২১, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
Active News 24

ঘাটাইলে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা


সৈয়দ মিঠুন | ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ৭, ২০২১, ০৫:১৪ পিএম ঘাটাইলে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা

করোনা সংক্রমণ রোধে সারাদেশে চলছে তৃতীয় দফা লকডাউন। করোনা ভীতি উপেক্ষা করে ঈদ উদযাপনের লক্ষ্যে কেনাকাটায় মহাব্যস্ত হয়ে উঠেছে ঘাটাইলবাসী।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে ছুটছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ তাদের পছন্দের জিনিসপত্র কিনতে। প্রতিটি মার্কেটেই ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। এক্ষেত্রে তাদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো তাড়না নেই। কিছু কিছু মার্কেটে পা ফেলার জায়গাও পাওয়া খুবি মুসকিল হয়ে পরছে।

ঘাটাইল নিউ মার্কেটে একজনের সঙ্গে আরেকজনের গা ঘেঁষে ঘেঁষে চলতে দেখা গেছে। অভিভাবকদের সঙ্গে ঈদ শপিংয়ে মার্কেটে আসা শিশুদেরকেও মাস্ক পরতে দেখা যায়নি। বিক্রেতারা বলছেন, ক্রেতাদের ভিড় অনেক বেশি। প্রায় প্রতিটি মার্কেটে বিক্রিও হচ্ছে সন্তোষজনক। ঈদ শপিংয়ে উপচেপড়া ভিড়ের কারণে ঘাটাইলে বাজার সড়কে তীব্র যানজটেরও দেখা মেলে।

আরো পড়ুন: ইফতার দিতে এসে বাড়ি ফাঁকা পেয়ে রোজাদার গৃহবধূকে ধর্ষণ

করোনা মহামারিতে প্রতিদিন বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। বাড়ছে সংক্রমণও। সরকারের কঠোর বিধিনিষেধ জারির পরও ঘাটাইল পৌরবাসী কিংবা জনসাধারণের মধ্যে যেন কোনো ধরনের করোনা ভীতি নেই। এই সংকটকালেও নিশ্চিন্তে ঈদের কেনাকাটা করছেন তারা। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিংমল খোলা থাকছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে বেচাকেনা করতে হবে বলে জানানো হয় নির্দেশনায়।

আজ শুক্রবার (৭ মে) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ঘাটাইলে বিভিন্ন শপিংমল ও মার্কেট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্তের কাছে জনপ্রিয় ঘাটাইল নিউ মার্কেটগুলো ক্রেতায় পরিপূর্ণ।

নিউ মার্কেট ও মার্কেটের সামনের দোকানগুলোতে শারীরিক দূরত্ব দূরে থাক, গায়ে গা লাগিয়ে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে মানুষজনকে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের অনেকের মুখে মাস্ক থাকলেও তা সঠিক নিয়মে পরা ছিল না।

আরো পড়ুন: নীলফামারীতে গাছচাপায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারঘোষিত বিধিনিষেধ দুদফা শেষে তৃতীয় দফা চলছে। বিধিনিষেধের শুরুর দিকে জনসমাগম ও অন্যদিকে, তৃতীয় দফায় লকডাউনে ঘাটাইল শপিং মল বাজার রোডে অটো রিস্কা ভ্যান কারণে তীব্র যানজটের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষদের।

সরেজমিনে ঘাটাইলে বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, শপিংমল ও দোকানপাট খুলে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একপ্রকার হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন ক্রেতারা। কেউ নিজস্ব গাড়ি হাঁকিয়ে যাচ্ছেন মার্কেটে। কেউ যাচ্ছেন অটোরিকশা কিংবা রিকশায়। তবে এখন আর কোনো চিন্তা-ভাবনা নেই মানুষের মধ্যে। স্বাস্থ্যবিধি কেউ কেউ মানছেন আর কেউবা মানছেন না, যারা মানছেন না তাদেরকে বাধ্য করাররও যেন কেউ নেই।

ঘাটাইল শান্তিমহলের বাসিন্দা রুকছানা আক্তার বের হয়েছেন সন্তানদের জন্য নতুন কাপড় কিনতে। বের হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন মনে হয় করোনা কমে গেছে। অনেকেই তো বের হচ্ছেন। তাইতো আমরাও বের হয়েছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বের হয়েছি। তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরবো। বাকিটা আল্লাহ উপর ভরসা।

আরো পড়ুন: সুনামগঞ্জে শাবিপ্রবি’র শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

স্ত্রী ও দুই ছোট শিশু সন্তান নিয়ে ঘাটাইল নিউ মার্কেটে ঈদের শপিং করতে এসেছেন মোহাম্মদ রিপন। তিনি বলেন, ঈদের আগে গ্রামের বাড়িতে যাব। গ্রামে যারা আত্মীয়-স্বজন আছে, তাদের জন্য কিছু মার্কেট করতে এসেছি। এছাড়া, ছেলে-মেয়েসহ আমাদের কেনাকাটাও করবো। তবে তিনি নিজেই দাবি করেন, নিউ মার্কেটে আসা অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। মানুষের চাপের কারণে গায়ে গা লাগিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

ঘাটাইল নিউ মার্কেটে ঈদের শপিং করতে এসেছেন আরজিনা আক্তার । তিনি বলেন, করোনার মধ্যেও তো ঈদ করতে হবে। এ কারণেই কিছু কেনাকাটা করতে এসেছি। তবে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘোরাঘুরি কম করছি, পছন্দ হলেই কিনে নিচ্ছি পছন্দের পোশাক।

মার্কেটে বাচ্চাদের কাপড় দেখছিলেন সালমা বেগম। কথা প্রসঙ্গে জানালেন, সবসময় পরিবারের সদস্যদের নিয়েই মার্কেটে আসেন। কিন্তু গত দুই বছর করোনার কারণে তাদের নিয়ে আসা হয় না। তাই নিজেই পছন্দ করে কেনাকাটা করছেন।

আরো পড়ুন: ‘ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে’ চাচাতো বোনকে খুন করল কিশোর

করোনা সংক্রমণের মধ্যেও অনেকে শপিংমলগুলোতে ঘুরতে বেরিয়েছেন। দেখছেন নতুন কী কী কাপড়-চোপড় কিংবা জিনিসপত্র এসেছে। এতে করেও লোকজনদের ভিড় বাড়ছে।

নিউ মার্কেট এলাকার ফুটপাতে কাপড় বিক্রি করেন আকরাম উদ্দিন। তিনি বলেন, গত কদিনে লকডাউনে অনেক টাকার ক্ষতি হয়েছে। মাত্র কয়েকদিন বসতে পারছি। তবে আজ ক্রেতা অনেক। বিক্রিও মোটামুটি আগের দিনের তুলনায় ভালোই হচ্ছে।

আরো একজন ব্যবসায়ী বলেন, সরকার মার্কেট খুলছে কিন্তু দুর পাল্লার বাস বন্ধ ঘাটালের অনেক মানুষ ঢাকায় এবং ঢাকার বাইরে থাকেন হয়তোবা দূরপাল্লার বাস চলাচল করলে তাহলে ক্রেতা বেড়ে যেতো। যে কারণে দূরের ক্রেতারা আসতে পারছে না। তবে আজ বেশ ভালো ক্রেতা এসেছে। বাস চললে আরো অনেক ক্রেতা আসত।

আরো পড়ুন: ঝিনাইদহে ২ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে ভোক্তা অধিকারের জরিমানা

বিক্রেতারা বলছেন, আজ ভিড় বেশি। কিন্তু বেচা-বিক্রি অনেক কম। যে পরিমাণ জনসমাগম রয়েছে সবাই যদি একটি করে জিনিসও কিনতেন তাহলে আমাদের দোকানের জিনিসপত্র অনেক কমে যেত। কেনাকাটা হচ্ছে কম, অধিকাংশই শুধু জিনিসপত্র দেখছেন।

তবে এই বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা: মোঃ আলমগীর কবির জানান, করোনায় মহামারী সারা, পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে সরকার স্বাস্থ্য বিধি মানার শর্তে দোকানপাট শপিংমল খোলার অনুমতি দিয়েছেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে নিয়মকানুন না মানার ফলে করোনায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আমাদের দেশটা ভয়াবহতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, 

তবে এই বিশেষজ্ঞরা সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেই করোনা প্রতিরোধ হবে বলে তিনি জানান।

ইউসুফ / একটিভ নিউজ