×
  • ঢাকা
  • শনিবার, ১২ জুন, ২০২১, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
Active News 24

চাচীর পরকীয়ার কথা জেনে যাওয়ায় ভাতিজাকে খুন


একটিভ নিউজ প্রকাশিত: মে ৯, ২০২১, ১২:৪৫ এএম চাচীর পরকীয়ার কথা জেনে যাওয়ায় ভাতিজাকে খুন
সংগৃহীত

রাজশাহী তানোর উপজেলার এনায়েতপুর চোরখৈর গ্রামে চাচীর পরকীয়ার কথা জেনে যাওয়ায় নৃসংশ খুন হতে হয়েছে ভাতিজা প্রকাশ কুমার(১৯)কে। এ ঘটনার ৬দিনের মাথায় এই ক্লুলেস হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে তানোর থানা পুলিশ।

এই ঘটনায গ্রেফতার হয়েছেন উপজেলার এনায়েতপুর চোরখৈর গ্রামের বাসিন্দা নিহতের চাচা বিমল সিং (৫০), তার স্ত্রী অঞ্জলী রাণী (৩৫), এই দম্পতি বড় ছেলে সুবোধ সিং (১৮) এবং অঞ্জলী রাণীর পরকীয়া প্রেমিক নওগাঁ জেলার নিয়মতপুর উপজেলার সাদাপুর খরিবাড়ী এলাকার বাদল (৪৫)।

নিহত প্রকাশ কুমারওই গ্রামের নির্মল সিং এর ছেলে।

পুলিশি জেরার মুখে এরা এই হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করেছেন। এ নিয়ে রাজশাহীর আদালতে পৃথক-পৃথকভাবে জবানবন্দিও দেন গ্রেফতারকৃত চার আসামি।

আরো পড়ুন: কুড়িগ্রামে একা পেয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ

গত ২৮ এপ্রিল রাতে প্রকাশ কুমার উপজেলার কলমা ইউনিয়নের এনায়েতপুর চোরখৈর গ্রামের নির্জন রাস্তায় খুন হন প্রকাশ। পরদিন সকালে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রাজশাহী মহানগরীর মিষ্টি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নবরূপের কর্মী ছিলেন প্রকাশ কুমার। লকডাউনে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় নিজ বাড়ীতে অবস্থান করছিলেন তিনি। এ নিয়ে ২৯ এপ্রিল সন্দেহভাজন অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা। মামলা নম্বর- ২৬।
 
এ বিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, মামলার প্রধান আসামিসহ খুনের সাথে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা জানিয়েছেন, বিমল সিং এর স্ত্রীর সাথে তিন বছর ধরে পরকীয়া চলছিল পার্শ্ববর্তী নিয়মতপুর উপজেলার সাদাপুর খরিবাড়ী এলাকার রাজমিস্ত্রী বাদলের। স্বামীর অবর্তমানে প্রায় বাদলের সাথে শারীরিক সর্ম্পকে লিপ্ত হতেন অঞ্জলী।

 

আরো পড়ুন: মসজিদে ইফতার খেতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ৪ বছরের জোনায়েদ

তবে লকডাউনের কারণে বিমল সিং এর ভাতিজা প্রকাশ কুমার বাড়ীতে অবস্থান করছিলেন। প্রকাশ তার চাচির পরকীয়ার বিষয়টি জেনে যান। জানাজানির শঙ্কায় চাচি অঞ্জলী ও তার পরকীয়া প্রেমিক বাদল, প্রকাশকে খুন করার পরিকল্পনা করেন। অঞ্জলী ভুল বুঝিয়ে এই পরিকল্পনায় যুক্ত করেন স্বামী ও বড় ছেলেকে।

গত ২৮ এপ্রিল দিনগত রাতে ভাতিজা প্রকাশকে শিক্ষা দিতে এনায়েতপুর চোরখৈর ফসলি মাঠের নির্জন রাস্তার ধারে ডেকে নিয়ে যান বিমল তার স্ত্রীর কথামত । এ সময় তার ছেলে সুবোধ সাথেই ছিলেন। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন বাদল ও অঞ্জলী। সেখানে পৌঁছামাত্রই বাদল রাম দা দিয়ে প্রকাশের মাথায় কোপ দেন। এতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন প্রকাশ। সেখানেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।

পুলিশ বলছে যে, ঘটনার পর যে যার মতো বাড়ি ফেরেন। ক্লুলেস হত্যাকান্ড হিসেবে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মামলা দায়েরের পর ১ মে নিজ বাড়ী থেকে গ্রেফতার হন প্রধান আসামি বাদল। তাকে সাত দিনের রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে হত্যা রহস্য।

সাইফুল বারী / একটিভ নিউজ