×
  • ঢাকা
  • শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮
Active News 24

অভাবে কো‌লের সন্তান‌ বেচে দিলেন বাবা


একটিভ নিউজ প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২১, ১০:৪৯ পিএম অভাবে কো‌লের সন্তান‌ বেচে দিলেন বাবা
সংগৃহীত

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রভাবে বেকার হ‌য়ে যাওয়া এক বাবা তার কো‌লের সন্তান‌কে বি‌ক্রি ক‌রে দি‌য়ে‌ছেন। এ ঘটনার পর উপ‌জেলা প্রশাসন শিশু‌টিকে উদ্ধার তার মা‌য়ের কো‌লে ফি‌রি‌য়ে দি‌য়ে‌ছে। 

উপ‌জেলা প্রশাসন আজ শুক্রবার (১৬ জুলাই) শিশু‌টি‌কে উদ্ধার ক‌রে মায়ের কো‌লে ফি‌রি‌য়ে দেয়। 

এ ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নগদাশিমলা ইউনিয়নের সৈয়দপুর পূর্বপাড়া গ্রামের দিনমজুর শাহ আলম ও রাবেয়া দম্পতির তিন ছেলে সন্তান। গত ১৬ দিন আগে তিন জনের ম‌ধ্যে তিন মাস বয়সী ছেলে আলহাজকে ৪৫ হাজার টাকায় ঘাট‌াইলের বাইশকাইল গৈজারপাড়া গ্রামের সবুজ মিয়া ও স্বপ্না দম্পতির কাছে বি‌ক্রি ক‌রে দেন শাহ আলম। 

এদিকে শিশুটির মা রাবেয়া বেগম বলেন, দিনমজুর স্বামী শাহ আলমের রোজগারে পাঁচজনের সংসার চলে না। করোনার কারণে কয়েক মাস ধরে শাহ আলম বেকার। সংসারে বেশ কিছু ঋণ রয়েছে। পাওনাদাররা প্রতিদিনই তাগাদা দিচ্ছিল। এরই মধ্যে স্বামী শাহ আলম গাঁজায় আসক্ত হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় পাওনা টাকা পরিশোধ এবং সংসারে অভাবে কারণে তিন মাস বয়সী আলহাজকে বাইশকাইল গৈজারপাড়া গ্রামের সবুজ মিয়া ও স্বপ্না দম্পতির নিকট ১৬ দিন আগে ৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয় শাহ আলম।

আরো পড়ুন: যানজটে আটকে ৫ লাখ টাকার গরুর মৃত্যু

গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন এ ঘটনার বিষয়ে বলেন, সবুজ ও স্বপ্না দম্পতি নিঃসন্তান। তারা শাহ আলম-রাবেয়া দম্পতির অভাবের সুযোগ নিয়ে টাকার বিনিময়ে শিশুটি কিনে নেন। আদালতের অনুমতি নিয়ে দত্তক নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু তারা সেটি করেননি। এমতাবস্থায় প্রশাসন সবুজ মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শিশু আলহাজকে উদ্ধার করে মা রাবেয়া বেগমের কোলেপৌঁছে দেয়। কেউ আগ্রহ প্রকাশ না করায় এবং মানবিক দিক বিবেচনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি।

গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজ মল্লিক এ বিষয়ে জানান, ঘটনাটির নেপথ্যে রয়েছে দারিদ্র্য। পরিবারটিকে সার্বিকভাবে সহায়তা করা হচ্ছে। রাবেয়া বেগমকে পৌর শহরে নুরুল ইসলামের ক্লিনিকে আয়া পদে চাকরির ব্যবস্থা করাসহ নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ধরণের সাহায্য অব্যাহত থাকবে।

এদিকে জেলা প্রশাসন ওই শিশুর যাবতীয় ভরণপোষণ ও লেখাপড়ার দায়িত্ব নেবে বলে জানিয়েছেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি। 

রেজাউল করিম / একটিভ নিউজ