• ঢাকা
  • রবিবার, ০৭ মার্চ, ২০২১, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭
Active News 24
 পুলিশের দুই সদস্যসহ মোট ৪ জনের নামে মামলা

মাদক নিতে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ, ফেঁসে গেছে দুই পুলিশ


একটিভ নিউজ | ডেস্ক: প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১, ০৫:৪৮ পিএম মাদক নিতে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ, ফেঁসে গেছে দুই পুলিশ

পাসপোর্ট ভিসা ছাড়াই অবৈধভাবে ভারতের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করেন এবং সীমান্তের দুই দেশের মাদক কারবারিদের সাথে যোগাযোগের অভিযোগে পঞ্চগড় পুলিশের দুই সদস্যসহ মোট ৪ জনের নামে মামলা করেছে পুলিশ। ওই মামলায় গত মঙ্গলবার পঞ্চগড় পুলিশ লাইনে কর্মরত সহকারী উপপরিদর্শক মোশারফ হোসেন (৪০) ও কনস্টেবল ওমর ফারুক (২৪) গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। সোমবার রাতেই এই দুই পুলিশ সদস্যসহ ৪ জনকে আসামী করে পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা করেছে ওই থানার উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান।

মামলার বাকী আসামীরা হলেন: পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের মোমিনপাড়া এলাকার মাদক ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম (৪৫) ও মাসুদ নামের এক ব্যক্তির। মাসুদের ঠিকানা ও পরিচয় নেই এজাহারে।

মামলার এজাহার থেকে গেছে: মোমিন পাড়া সীমান্ত এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলামের বাসায় পুলিশ সদস্য ওমর ফারুক ও মোশারফের যাওয়া আসা ছিল । ঘটনার দিন তারা ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে সেখানে ভুট্রো নামে একজনের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাদের সাথে মারামারির ঘটনা ঘটলে সেখান থেকে মোশারফ ও আমিরুল ইসলাম পালিয়ে যায়। ওমর ফারুক কে আটক করে ভারতীয় বিএসএফের হাতে তুলে দেয় স্থানীয়রা।

আরো পড়ুন: পঞ্চগড় সীমান্ত থেকে ধরে নেয়া সীমান্তসেই পুলিশ সদস্যকে ফেরত দিল বিএসএফ

পঞ্চগড়ে সীমান্ত থেকে এর আগে ওমর ফারুক (২৪) নামে জেলা পুলিশে কর্মরত এক পুলিশ সদস্যকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। গত রবিবার রাত সাড়ে ৮ টায় জেলার সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের মোমিনপাড়া সীমান্ত থেকে তাকে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে: ওই পুলিশ কনস্টেবল পঞ্চগড় আদালতে বিচারকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন। তার বাড়ি দিনাজপুর জেলায়।

আরো পড়ুন: বিদেশফেরত যুবকের সঙ্গে ঘর ছাড়লেন নারী ইউপি সদস্য

ওইদিন এলাকাবাসী জানায়, রবিবার রাত সাড়ে ৮ টায় পুলিশ কনস্টেবল ওমর ফারুকসহ ৩ জন পঞ্চগড় সদর উপজেলার মোমিনপাড়া সীমান্ত এলাকায় যায়। এ সময় কয়েকজন ভারতীয় নাগরিকের সাথে তাদের তর্ক হয়। তর্কের এক পর্যায়ে তারা ওমর ফারুককে আটক করে মারধর করে। পালিয়ে যায় অপর দুইজন। পরে পার্শ্ববর্তী ভারতীয় চানাকিয়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়। তবে তারা কেন সীমান্ত এলাকায় গিয়েছিলেন আর কেনই বা ভারতীয়দের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারেনি বিজিবি। তবে স্থানীয়রা দিয়েছেন ভয়ঙ্কর তথ্য। তারা জানিয়েছেন পুলিশের ওই সদস্য সহ ৩ জন মাদক দ্রব্য আনতেই সীমান্ত এলাকায় গিয়েছিলেন।

আরো পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় সাবেক স্বামী রক্তাক্ত করলেন স্ত্রীকে

এর পরে বিএসএফ এর হাতে আটকের ২২ ঘন্টা পর গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার ধরে নিয়ে যাওয়া পঞ্চগড়ের পুলিশ সদস্য ওমর ফারুককে ফেরত দেয় বিএসএফ। পঞ্চগড় সদর উপজেলার মোমিনপাড়া সীমান্তে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাকে ফেরত দেয় বিএসএফ। এ সময় ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মামুন, পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায় ও ২১ বিএসএফের কমান্ড্যান্ট জিএস টমার উপস্থিত ছিলেন। বিজিবি বিএসএফের কাছে ওই পুলিশ সদস্যকে গ্রহণ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে বিজিবি। এ সময় ওমর ফারুকের মাথায় ব্যান্ডেজ দেখা গেছে।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পঞ্চগড় সদর থানার ওসি তদন্ত জামাল হোসেন জানায় এই ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। দুইজন পুলিশ সদস্য বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। বাকি দুইজন কে ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

একটিভ নিউজ