×
  • ঢাকা
  • শনিবার, ০৮ মে, ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮

নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে সরকারি দফতরে ঘুরছেন শানু বেগম


একটিভ নিউজ প্রকাশিত: এপ্রিল ১০, ২০২১, ১১:৫৩ এএম নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে সরকারি দফতরে ঘুরছেন শানু বেগম
শানু বেগম | সংগৃহীত

বরিশালের মুলাদী উপজেলার বিধবা শানু বেগম (৬৫) নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে গত এক সপ্তাহ ধরে সরকারি বিভিন্ন দফতরে ঘুরছেন।

 শানু বেগমকে মৃত বলে উল্লেখ করা হয় ভোটার তালিকা হালনাগাদে। এ কারণে বিধবা ভাতার পাশাপাশি সরকারি সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শানু বেগম।

শানু বেগম মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের মৃত মন্নান ফরাজির স্ত্রী।

আরো পড়ুন: করোনা আক্রান্তে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের মৃত্যু

শানু বেগম বলেন, '২২ বছর আগে স্বামী মারা যান। দুই ছেলেই বেকার। মেয়েদের অনেক কষ্টে বিয়ে দিয়েছেন। চেয়ারম্যান ও মেম্বারের পেছনে ঘুরে ঘুরে বিধবা ভাতার তালিকায় নাম ওঠে। এরপর কয়েক বছর ধরে ভাতার টাকা পাচ্ছিলাম। কোনো রকম সংসার চলছিল। গত ১ বছর ধরে বিধবা ভাতার টাকা আর পাচ্ছিলাম না। মনে করেছিলাম সরকার বিধবাদের টাকা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে গ্রামের এক বিধবা নারীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, ওই নারী নিয়মিত বিধবা ভাতার টাকা পাচ্ছেন। এরপর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় গিয়ে খোজ নিয়ে জানতে পারি ২০১৯ সালে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সময় আমাকে মৃত দেখানো হয়েছে।'

শানু বেগম আরো বলেন, 'নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দফতরে ঘুরছি। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় গিয়ে জানতে পারি, ১৯ সালের আগেই আমি মারা গেছি। তাই ভোটার তালিকা হালনাগাদে আমাকে মৃত দেখানোর কারণে ১ বছর ধরে আমার বিধবা ভাতা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তারা আমাকে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় যোগাযোগ করে দেখতে বলেন।'

আরো পড়ুন: শেরপুরে প্রেমিকের বিশেষ অঙ্গ কেটে দিলেন প্রেমিকা

শানু বেগম বলেন, 'উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শওকত আলীকে বিষয়টি জানাই। তিনি বলেন, ২০১৯ সালে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সময় তথ্য সংগ্রহকারী চরকমিশনার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নিজাম উদ্দীন ওই নারীকে মৃত উল্লেখ করায় হয়তো এই বিপত্তি ঘটেছে।'

তিনি বলেন, 'আমি মারা যাইনি। আমি জীবিত। মারা গেলে তাদের অফিসে গিয়ে কীভাবে কথা বললাম। এটাইতো বড় প্রমাণ। গত এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন অফিসে ঘুরছি। কিন্তু কেউ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।'

আরো পড়ুন: মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় বাবাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. শওকত আলী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, '২০১৯ সালে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় তথ্য সংগ্রহকারী শিক্ষক জীবিত শানু বেগমকে হয়তো মৃত উল্লেখ করেছেন। এ কারণে হালনাগাদ তালিকায় শানু বেগমকে মৃত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি দুঃখজনক। শানু বেগমকে লিখিতভাবে আবেদন করতে বলা হয়েছে। আবেদনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।'

ভোটার তালিকা হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহকারী চরকমিশনার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নিজাম উদ্দীন মুঠোফোনে বলেন, 'যতদূর মনে পড়ে হালনাগাদ কার্যক্রমের আগেই শানু বেগম ভোটার তালিকায় মৃত ছিলেন। হালনাগাদের সময় সেটাই উল্লেখ করা হয়েছে। এর বেশি আর কিছু আমার মনে নেই।'

সাইফুল বারী / একটিভ নিউজ