×
  • ঢাকা
  • সোমবার, ১৭ মে, ২০২১, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

অচেতন অবস্থায় বাসায় নিয়ে অশ্লীল ছবি ধারণ, স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা


একটিভ নিউজ প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২১, ১১:০৭ এএম অচেতন অবস্থায় বাসায় নিয়ে অশ্লীল ছবি ধারণ, স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা
সংগৃহীত

বরিশাল নগরের এআরএস বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী তামান্না আফরিনের আত্মহত্যার ঘটনায় তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। 

মামলাটি শনিবার (১০ এপ্রিল) গ্রহণ করা হয় বলে মুঠোফোনে রাত ১১টার দিকে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন কোতয়ালী থানার ওসি নুরুল ইসলাম। 

এ বিষয়ে ওসি নুরুল ইসলাম জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়। এ মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে অভিযুক্ত প্রেমিক সাদমান গালিবকে। 

আরো পড়ুন: লকডাউনে দোকান বন্ধ করতে বলায় আনসারকর্মীকে খুন

এদিকে মামলার বরাত দিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আসাদুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রতিবেশী সাদমান গালিব তামান্না আফরিনের পরিচিত। ৬ মাস আগে রেস্টুরেন্টে খাওয়াতে নিয়ে খাবারে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে গালিব তাকে বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তামান্নার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তুলে রাখেন। খবর পেয়ে তামান্নার বাবা গালিবের বাসা থেকে অচেতন অবস্থায় মেয়েকে নিয়ে আসেন। 

এসআই আসাদুল ইসলাম আরো জানান, গালিব পরবর্তীতে তামান্নার সেই ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দেন এবং ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এক পর্যায়ে তামান্নার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন গালিব। এতে কষ্ট পেয়ে ‘সুইসাইড নোট’ লিখে ২ এপ্রিল (শুক্রবার) বরিশাল নগরীর ইসলাম পাড়ায় নানার বাসায় আত্মহত্যা করেন।

আরো পড়ুন: পুলিশের লকডাউনের মহড়া দেখে আতঙ্কে প্রাণ গেল সামসুলের

‘আমি আজ সবাইকে ছেড়ে চলে যাচ্ছি। আমার মৃত্যুর জন্য শুধু একজনই দায়ী। তার নাম হলো সাদমান গালিব। আমি ওকে অনেক ভালোবাসি। কিন্তু ও (গালিব) আমার সাথে আর সম্পর্ক রাখতে চায় না। তাই আমি ওকে ছাড়া বাঁচতে পারব না ভেবে সবাইকে ছেড়ে চলে যাচ্ছি। আমি সাদমানকে অনেক ভালোবাসি; ও বুঝল না। আশা করি আমার মরার পর ও (গালিব) আমার ভালোবাসাটা অনুভব করবে। আমি আর বেশি কিছু বলতে চাই না। বিদায় সাদমান।’- এসব কথাই লিখা ছিল তামান্নার সেই সুইসাইড নোটে।

প্রসঙ্গত, তামান্না বরিশাল নগরের দক্ষিণ আলেকান্দার এআরএস বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তামান্না তার বাবা-মায়ের মধ্যে ৩ বছর আগে বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ার পর থেকে কাজীপাড়া এলাকায় নানা হাফেজ মো. আলমগীরের বাসায় থাকত।

রেজাউল করিম / একটিভ নিউজ