×
  • ঢাকা
  • সোমবার, ১৭ মে, ২০২১, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে জ্ঞান হারালেন নববধূ 


একটিভ নিউজ প্রকাশিত: এপ্রিল ১৯, ২০২১, ০৩:৫৮ পিএম স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে জ্ঞান হারালেন নববধূ 
সংগৃহীত

শরীয়তপুর জেলা সদর উপজেলায় এলাকাবাসীর ব্যানারে মো. দাদন খলিফা (৩০) হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নের গয়ঘর খলিফাকান্দি এলাকায় সোমবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে এ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন চলাকালে দাদনের নববধূ নিশি আক্তার (১৮) স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

নিশি মানববন্ধনে বলেন, ‘গত ৩১ মার্চ দাদনের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের ১৬ দিন পর আমার স্বামীকে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা হত্যা করে। স্বামী হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।’ এরপরই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি।

নিহত দাদন খলিফার বাবা সেকান্দার খলিফা মানববন্ধনে বলেন, ‘ইদ্রিস খান ও তার তিন ভাই ১৯৯৭ সালে আমার বোনকে হত্যা করেন। সেই বিচার পাইনি। বিচার না হওয়ায় তারা ২৪ বছর পর আবার আমার ছেলেকে হত্যা করল। ককটেল বোমা ফাটিয়ে ইদ্রিস খান আমাদের সামনে থেকে ছেলেকে তুলে নিয়ে যান। ৩০-৩৫ ব্যক্তি মিলে কুপিয়ে ছেলেকে ফেলে রেখে গেছেন। কী দোষ করেছিলাম আমরা? দেশের অবস্থা ভালো নয় দেখে তাকে ২০১৪ সালে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। দুই মাস আগে ফিরে এসেছে। ২০ দিন আগে তাকে বিয়ে দিয়েছি। তবে করোনার কারণে এখনও বউ বাড়িতে তুলে আনতে পারিনি। স্বামীর ঘরে আসার আগেই মেয়েটি বিধবা হলো। এ হত্যার পরিকল্পনাকারী ও ইদ্রিসদের প্রশ্রয়দাতা এসকান্দার সরদার, বাচ্চু মাদববর, আবুল খান, শুকুর ব্যাপারী, রশিদ খলিফা, আজিত ফলিফাগং। এসকান্দার সরদারকে মামলায় আসামি করতে চাইছি, কিন্তু পুলিশ তার নাম অন্তর্ভুক্ত করতে চায় না।’

আরো পড়ুন: জীবননগরে নিজের তৈরী ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ১ যুবকের মৃত্যু

মানববন্ধনে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য (মেম্বার) হেনা পারভিন, মোহাম্মদ খলিফা, শৌলপাড়া ইউনিয়নবাসী মাকসুদা বেগম, মোক্তার আখন্দ বলেন, দাদনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।

এসময় নিহত দাদনের মা আমেনা বেগম, জুলহাস ফলিফা, চাচা রাজ্জাক খলিফা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফজলুল হক ব্যাপারী, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক নুরুল হক খলিফা, সদস্য আব্দুল মান্নান খান ভাসানী, শৌলপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা খান, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন আখন্দ, ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাজাহান খলিফা, সমাজসেবক হোসেন মাদবরসহ শৌলপাড়া ইউনিয়নের ৫০০ লোক উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন: বগুড়ায় লকডাউনে চরম সংকটে কর্মহীন দেড় লাখ মানুষ

উল্লেখ্য, শরীয়তপুর সদর উপজেলার গয়ঘর ফলিফাকান্দি গ্রামের ইদ্রিস খাঁর সাথে দাদনের বাবা সেকেন্দার খলিফার দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। গত ১৫ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় গয়ঘর গ্রামের নুরুল হক খলিফার বাড়ির মসজিদে নামাজ পড়ে দাদন বের হন। এসময় সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ইদ্রিস খাঁ, এসকান্দার সরদারসহ ৩০-৩৫ জন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে নিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন।

এসময় তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। দাদনকে স্থানীয়রা শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঢাকা নেয়ার পথে পোস্তগোলা এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

সাইফুল বারী / একটিভ নিউজ