×
  • ঢাকা
  • সোমবার, ১৭ মে, ২০২১, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

যশোরের গদখালী অঞ্চলের ফুল চাষীরা ব্যাপক ক্ষতিতে দিশেহারা


সুমনা আফরোজ  | যশোর জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: এপ্রিল ১৯, ২০২১, ০৫:৩৬ পিএম যশোরের গদখালী অঞ্চলের ফুল চাষীরা ব্যাপক ক্ষতিতে দিশেহারা

করোনা ভাইরাস সংক্রমনে পুরো দেশ স্থবির হয়ে পড়ায় ফুলের রাজধানী খ্যাত যশোরের গদখালী অঞ্চলের ফুল চাষীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। 

লকডাউনে দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ থাকায় এবং ভরা মৌসুমে ফুল বেচতে না পেরে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। 

আরো পড়ন: জীবননগরে নিজের তৈরী ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ১ যুবকের মৃত্যু

প্রতিটি ফুল চাষীই ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছেন। ফুল বিক্রি না হওয়ায় চাষীরা তাদের ক্ষেতের ফুল তুলে ফেলে দিচ্ছেন। কোটি কোটি টাকার ফুল যাচ্ছে গরু ছাগলের পেটে আবার কোন কোন ফুল বিক্রির অভাবে গাছেই শুকিয়ে যাচ্ছে।   

সরেজমিনে তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, যশোর শহর থেকে ২০ কিলোমিটার পশ্চিমে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশে ফুলের স্বর্গরাজ্য গদখালী। 

বাংলাদেশে চাহিদা মিটিয়ে সীমানা ছাড়িয়ে যশোরের গদখালির ফুল এখন বিদেশেও রপ্তানি হয়। 
বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯র কারণে পুরো বিশ্বই আজ লকডাউন। 

গত ১৪ এপ্রিল থেকে গদখালি ফুলের বাজার বন্ধ রয়েছে। 

আরো পড়ন: পবিত্র রমজানে বাজার সহনীয় রাখতে ভোক্তা অধিদফতরের অভিযান

অথচ বাংলাদেশে ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল হচ্ছে ফুলের ভরা মৌসুম। 

বিশেষ করে বিজয় দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস, পহেলা ফাল্গুন, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও বাংলা নববর্ষে ফুলের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা, গ্ল্যাডিওলাসের পাশাপাশি হাজার হাজার বিঘা জমিতে জারবেরা চাষ করেছেন এখানকার চাষিরা।  

পরিবহন ও দোকানপাট বন্ধ থাকার পাশাপাশি ফুলের বাজার বসছে না এখানে। সীমিত সংখ্যক দোকানপাট বসলেও কেনাবেচা নেই। এদিকে ফুল না কাটলে নতুন করে আর কুঁড়ি আসে না। তাই গোলাপ ও জারবেরা ফুল কেটে ফেলে দেওয়া সহ ছাগল-গরু দিয়ে খাওয়ায়ে দিচ্ছেন কৃষকরা।

অথচ, এসময়ে প্রতিদিন সূর্য ওঠার আগেই চাষী, পাইকার, মজুরের হাঁকডাকে বাজার মুখর হয়ে উঠার কথা ছিল। সামনের দিনগুলোতে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আশু হস্তক্ষেপ কামনা ও সার্বিক সহযোগিতা চান তারা। 

আরো পড়ন: বাগেরহাটে কৃষকলীগের ৪৯ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

ফুল চাষী এবং ব্যবসায়ীরা বলেন, লাখ লাখ টাকা খরচ করেছিলাম গত বছরের লোকশান পুরনের আশায়। 

কিন্তু বর্তমান করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়া সহ লকডাউনের কবলে পড়ে যাওয়ায় এবারও ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। 

ধার দেনার দায়ে আত্মহত্যা ছাড়া পথ থাকবেনা। সামনে ক্ষতির পরিমাণ যেন আর না বাড়ে তার জন্য পরিবেশ স্বাভাবিক করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।                     

 
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম জানান  স্বাধীনতা দিবস  ও বাংলা বর্ষবরণে ফুল বিক্রি করতে না পারায় এ অঞ্চলের ফুল চাষি ও ব্যবসায়ীদের অন্তত ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বেচাকেনা বন্ধ থাকায় চাষিরা বাগান থেকে ফুল কেটে তা পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন। ফেলে দিচ্ছেন ময়লার স্তূপে।

আরো পড়ন: স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে জ্ঞান হারালেন নববধূ

১৯৮২ সালে ছোট্ট একটি নার্সারির মাধ্যমে গদখালিতে ফুলের চাষ শুরু করেন শের আলী সরদার নামে এক কৃষক। 

দেশে বাণিজ্যিকভাবে ফুলচাষের পথিকৃৎ বলা যায় তাঁকেই। তাঁর সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়েই গদখালি এলাকায় সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি চাষি ঝুঁকেছেন ফুল চাষে।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় দুই লাখ মানুষ ফুল উৎপাদন ও বিপণন ব্যবসায় জড়িত। এ খাতে জীবিকা নির্বাহ করেছেন আরো প্রায় সাত লাখ মানুষ। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে বাংলাদেশের ফুল রপ্তানি হচ্ছে।

আরো পড়ন: বগুড়ায় লকডাউনে চরম সংকটে কর্মহীন দেড় লাখ মানুষ

চাষিরা ফুল বিক্রি করতে পারছেন না। আবার ক্ষেতে ফুল রাখতেও পারছেন না। উভয় সংকটে পড়েছেন তাঁরা। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সেই চিন্তাই আমাদের মাথা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই ক্ষতি কোন জায়গায় গিয়ে ঠেকবে সেই ভাবনায় শঙ্কিত আমরা।

চলতি বছরে উপজেলায় ২৭২ হেক্টর জমিতে গ্লাডিওলাস, ১৬৫ হেক্টর জমিতে রজনীগন্ধা, ১০৫ হেক্টর জমিতে গোলাপ, ৫৫ হেক্টর জমিতে গাঁদা, ২২ হেক্টর জমিতে জারবেরা ও অন্যান্য ফুল চাষ করা হয়েছে প্রায় ৬ হেক্টর জমিতে। যেখানে জড়িয়ে রয়েছে প্রায় ২০ হাজার পরিবারের জীবন জীবীকা।

তুষার / একটিভ নিউজ