×
  • ঢাকা
  • শনিবার, ০৮ মে, ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮

ফের মাদ্রাসা শিক্ষকের ছাত্র পেটানোর ভিডিও ভাইরাল


একটিভ নিউজ প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২১, ০১:৫৮ পিএম ফের মাদ্রাসা শিক্ষকের ছাত্র পেটানোর ভিডিও ভাইরাল
সংগৃহীত

বাড়ির কাজ করে না আনায় কওমি মাদ্রাসার দ্বিতীয় জামায়াতের এক শিশুশিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন শিক্ষক। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। এত মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সোমবার বিকাল ৫টার পর সালিশি বৈঠক ডেকে ওই শিক্ষককে বহিষ্কার করে।

কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের ঢেবঢেবি বাজার কুলছুম ক্বওমি মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুই মিনিট ২০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মাদ্রাসার শিক্ষক আবু সাইদ টুপি মাথায় সাদা পাঞ্জাবি পরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পড়া আদায় করছেন। তার বাম হাতে একটি খাতা বা বই, ডান হাতে একটি বেত। কিছুক্ষণ পর সাদা পাঞ্জাবি পরা একটি শিশুশিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে গুঁতো দিয়ে মাথা নিচু করে মাটিতে ফেলে বেধড়ক পেটাতে থাকেন তিনি।

আরো পড়ুন: দুই নারী সঙ্গীর বিষয়ে পুলিশকে যা বললেন মামুনুল

জানা যায়, ওই শিক্ষার্থীর নাম লাল মিয়া। সে পাথরডুবী বাজারের বাসিন্দা এবং ঢেবঢেবি বাজারের ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেনের ছেলে। সাত বছর বয়সী ওই শিশুটি মাদ্রাসার দ্বিতীয় জামায়াতের শিক্ষার্থী।

এ ঘটনার বিষয়ে মোতালেব হোসেন জানান, ঘটনাটি ২৭ মার্চের। ছেলেকে বাড়ির কাজের জন্য নির্দিষ্ট একটি লেখা দেয়া হলে সেই লেখা না এনে অন্য লেখা নিয়ে যাওয়ায় তাকে এমনভাবে পিটিয়েছেন ওই শিক্ষক। ছেলে বাড়িতে ভয়ে কিছু জানায়নি। আমি সোমবার দুপুরে ফেসবুকে ভিডিওটি দেখে আঁতকে উঠি। বাড়িতে গিয়ে ছেলের কাছে সব ঘটনা শুনতে পাই। হুজুরের ভয়ে ছেলে এতদিন আমাদের বিষয়টি জানায়নি। ছেলের কাছে তিনি আরও জানতে পারেন, মারধরের কথা কাউকে বললে তাকে মেরে ফেলবে বলে হুজুর ভয় দেখিয়েছেন।

আরো পড়ুন: রিমান্ডে মুখ খুলতে শুরু করেছেন মামুনুল

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আবু সাইদ বলেন, ঘটনাটি প্রায় দেড় দুইমাস আগের। সেখানে দ্বিতীয় জামায়াতের নয়, তৃতীয় জামাতের শিক্ষার্থী ছিল। পরীক্ষা চলার সময় এক শিক্ষার্থী আমার সঙ্গে বেয়াদবি করায় তাকে একটু শাসন করেছি। বিষয়টি নিয়ে সে সময় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আমাকে শাস্তি দিয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে মাদ্রাসার প্রধান মৌলভি শিক্ষক মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক দেড় বছর ধরে এই মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন। দ্বিতীয় জামায়াতের ওই শিক্ষার্থী নির্যাতনের বিষয়ে আজ বাদ আসর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী লাল মিয়ার চাচাকে নিয়ে একটা বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে শিক্ষক আবু সাইদকে বহিস্কার করা হয়েছে।

কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা এ বিষয়ে জানান, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি, ঘটনার সত্যতা পেলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারের নির্দেশ অমান্য করে মাদ্রাসা চালু রাখা এবং শিশু নির্যাতনের অভিযোগসহ দুটি মামলা করা হবে।

রেজাউল করিম / একটিভ নিউজ