×
  • ঢাকা
  • সোমবার, ১৭ মে, ২০২১, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

কী পরিণতি হলো পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করা সেই যুবকের


একটিভ নিউজ প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২১, ০৪:৩৫ পিএম কী পরিণতি হলো পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করা সেই যুবকের
সংগৃহীত

ফেনী শহরের লকডাউন চলাকালে ট্রাংক রোডের মডেল হাইস্কুলের সামনে গতকাল সোমবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে পুলিশের সঙ্গে এক যুবকের বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আটক যুবককে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন।

ওসি নিজাম উদ্দিন জানান, আটক যুবক শহীদের মানসিক সমস্যা রয়েছে। তাকে হাজতখানায় রাখার পর চিৎকার করে সবাইকে অস্থির করে তোলে। একপর্যায়ে তার স্বজনদের ডেকে আনলে তারা মানসিক সমস্যার কথা জানায়। পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

জানা যায় যে, শহীদ (৩২)  ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নের ভূঞাঁরহাট এলাকার বাসিন্দা।

আরো পড়ুন: ফেনীতে পুলিশের সঙ্গে যুবকের হাতাহাতি (ভিডিও) 

পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির সেই ভিডিটিও গতকাল বিকেলেই সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। ৩ মিনিট ৩৫ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, মাস্কবিহীন এক যুবক রিকশাযোগে শহরের উকিলপাড়া থেকে ট্রাংক রোডের দিকে যাচ্ছিলেন। ফেনী মডেল স্কুলের সামনে মডেল থানার দায়িত্বরত উপপরিদর্শক (এসআই) যশোমন্ত মজুমদারসহ পুলিশ সদস্যরা রিকশার গতি রোধ করেন। 

কেন তাঁর গতি রোধ করা হলো, এ কথা জানতে চেয়ে ওই যুবক চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘অন্য রিকশা ছেড়ে দিছস। আমার রিকশা কেন ধরা হয়েছে?’ এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাকে রিকশা থেকে জোরপূর্বক নামান। এতে ওই যুবক আরও ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশকে গালমন্দ করতে থাকেন। এ সময় পুলিশ তাঁকে ‘পাগল’ আখ্যা দিলে ওই যুবক কেন তাঁকে পাগল বলা হলো, তার কারণ জানতে চান। পুলিশ তাঁর হাতে হাতকড়া লাগানোর চেষ্টা করলে চার পুলিশ সদস্যের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। তখন ওই যুবক বারবার বলতে থাকেন, ‘এ দেশ কি পুলিশের দেশ?’ 

আরো পড়ুন: ফেনীতে পুলিশ-যুবক হাতাহাতি: পুলিশ সদস্য ক্লোজড

এ সময় হাতকড়া লাগাতে না পেরে এক পুলিশ সদস্য তাঁকে পিঠমোড়া করে রাস্তায় চেপে ধরলে সড়কের আশপাশে থাকা লোকজন উচ্চ স্বরে হইচই করতে থাকেন। হাতকড়া লাগানোর পর ওই যুবক দাঁড়িয়ে পুলিশকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন।

ঘটনাস্থলে জনতার ভিড় জমতে শুরু করলে ওই ব্যক্তি সবার উদ্দেশে বলতে থাকেন, মসজিদে কোরআন পড়তে যাচ্ছিলাম, বলছি আমাকে ছেড়ে দেন। এ সময়, পুলিশ তাকে আটক করতে গেলে তিনি হ্যান্ডকাফ পরতে অস্বীকৃতি জানান এবং গালাগালিসহ এলোপাতাড়িভাবে হাত-পা ছুড়তে থাকে।

একপর্যায়ে ৪/৫ জন পুলিশ সদস্য তাকে হ্যান্ডকাফ পরানোর জন্য জোরপূর্বক মাটিতে ফেলে চাপ প্রয়োগ করে। তখন উপস্থিত জনতার তোপের মুখে তারা আবার ওই ব্যক্তিকে ধরে উঠান এবং হ্যান্ডকাফ পরান। এ সময় ওই ব্যক্তি ‘এটা আওয়ামী লীগের দেশ’ বলে চিৎকার করতে থাকে। পরে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

সাইফুল বারী / একটিভ নিউজ