×
  • ঢাকা
  • শনিবার, ০৮ মে, ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮

‘আমার গায়ে হাত তুলেছে পুলিশ কর্মকর্তা’


একটিভ নিউজ প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২১, ০৫:৫৬ পিএম ‘আমার গায়ে হাত তুলেছে পুলিশ কর্মকর্তা’
সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা পুলিশের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ করেছেন। অনুসারী স্বপন মাহমুদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) দুপুর ১২টায়  তিনি পুলিশের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ করেন।

কাদের মির্জা ফেসবুক লাইভে  অভিযোগ করেন, ‘সন্ত্রাসী পুলিশেরা আমার সাত জন কর্মী, বিশেষ করে মিকন ও আরও একজনকে গ্রেফতার করে নির্যাতন চালায়। সকালের দিকে খবর পেয়ে আমি তাদের দেখতে গিয়েছি। তারা শোয়া থেকে উঠতে পারছে না। তাদের দেখে ফেরার পথে আমাদের ওপর আক্রমণ করেছেন অ্যাডিশনাল এসপি। আমার গায়ে হাত দিয়েছেন। আমি দশবার বলেছি আমি ডিএস মর্যাদার, তুমি আমার গায়ের ওপর হাত দাও কেন? সে তারপরও আমার গায়ের ওপর হাত দিয়েছে। ওসি আমার সহকারী সাজুর গায়ে হাত দিয়েছে। পুলিশেরা গায়ের ওপর হাত দিয়েছে। তাকে মারধর করেছে। তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’

আরো পড়ুন: মামুনুল হককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে হামলা, ওসিসহ ৫ পুলিশ আহত

কাদের মির্জা ফেসবুক লাইভে আরও অভিযোগ করেন, ‘লাঞ্ছিত করার পর আমি চলে আসতে চাইলে অ্যাডিশনাল এসপি, ওসিসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা আমাকে গালিগালাজ করেছে। আমি কোনও দিন থানায় যাইনি। আজকে একদিন গিয়েছি। এদের অত্যাচারের কথাটা দেখে আসার জন্য এবং শোনার জন্য। আজকে আমাদের ওপর এ তাণ্ডব চালিয়েছে। গত তিনটা মাস আমার ওপর তাণ্ডব চলছে।’

তবে কাদের মির্জার এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বসুরহাট থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কাদের মির্জা ওপর মহলের সহানুভূতি আদায়ে এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছেন।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম আহমেদ কাদের মির্জার অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন।

পুলিশ সুপার শামীম আহমেদ আরও বলেন, কাদের মির্জা থানায় গিয়ে সরাসরি থানার হাজতের সামনে চলে যান। আমি শুধু তাকে বলেছি, আপনি ওসির রুমে আসেন। এছাড়া আর কোনও কথা তার সঙ্গে হয়নি।

আরো পড়ুন: ফেনীতে পুলিশ-যুবক হাতাহাতি: পুলিশ সদস্য ক্লোজড

এর আগে, ভোরে কাদের মির্জার অনুসারী হিসেবে পরিচিত চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও বিভিন্ন মামলার আসামি নাজিম উদ্দিন মিকন (৪২) ও তার সহযোগী নুর উদ্দিন খাজাকে (৪০) আটক করে পুলিশ। কবিরহাট বাজারের পাশের একটি গোপন আস্তানা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক নাজিম উদ্দিন মিকন সিরাজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত ফকির উদ্দিন কামালের ছেলে এবং নুর উদ্দিন খাজা একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছায়দল হক মেম্বারের ছেলে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর জাহিদুল হক রনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, নাজিম উদ্দিন মিকন পুলিশের খাতায় মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি। তাছাড়াও সোমবার বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাস্টারপাড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরনবী চৌধুরীকে গুলি ও পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত মিকন। তার বিরুদ্ধে পুলিশ অ্যাসল্ট, বিস্ফোরণ, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ সাতটি মামলা রয়েছে।

 

সাইফুল বারী / একটিভ নিউজ