×
  • ঢাকা
  • রবিবার, ১৬ মে, ২০২১, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

প্রচন্ড দাবদাহে স্বপ্ন পুড়ে ছাই শার্শার আম চাষিদের


সুমনা আফরোজ | যশোর জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: এপ্রিল ২৫, ২০২১, ০৯:১৯ পিএম প্রচন্ড দাবদাহে স্বপ্ন পুড়ে ছাই শার্শার আম চাষিদের

গত কয়েক দিন ধরে প্রচন্ড দাবদাহে যশোরের শার্শায় বোটা থেকে আম ঝরে পড়ছে। আম চাাষির বিকল্প ব্যবস্থা করলেও কোন লাভ হচ্ছেনা। কেউ কেউ আম গাছের গোড়া কুপিয়ে পানি ঢেলেও পাচ্ছেন না কোনো সুরহা। একারণে চলতি আম চাষে লোকশানের আশা করছেন চাষিরা ।

গেল বছরে আমপান ঝড় ও করোনা ভাইরাসের প্রাদূর্ভাব ক্ষতি পুষিয়ে উঠার আশা করছিলেন চাষিরা। এবছর যে পরিমাণ আমের মুকুল দেখা গিয়েছিল তাই দেখে স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছিলেন তারা । কিন্তু প্রচন্ড দাবদাহে আশায় তাদের গুড়ে বালি হৃদয় পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। চাষিদের এই স্বপ্নের মধ্যে ছাই ঢেলে দিচ্ছে বৈশাখের প্রচন্ড দাবদাহ।

আরো পড়ুন: বাবা-মাকে খুনের পর মেয়েকে ধর্ষণ করেন আশরাফুল: পিবিআই

বাংলাদেশের মধ্যে সর্বচ্চ তাপমাত্রা বয়ে চলেছে যশোর অঞ্চল দিয়ে। আম বাগান গুলোতে মুকুল আশার সাথে সাথে বেশি লাভের আশায় যত্ন শুরু করেন চাষিরা। কিন্তু প্রচন্ড দাবদাহে প্রতিদিনই বোঁটা থেকে ঝরে পড়ছে ছোট বড় আম। এভাবে চলতে থাকলে আম চাষ লাঠে উঠবে বলে মনে করছেন চাষিরা। 

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল জানান, তিন হাজার বিঘা জমিতে আম চাষ করছেন এক হাজারেরও বেশি কৃষক।

লেংড়া, ফজলী, রোপালী, হিমসাগর, গোপালভোগ, আম্রপালী, মল্লিকা জাতসহ অন্তত ২৭৫টি আমের বাগান রয়েছে।

আরো পড়ুন: কুতুপালং ক্যাম্পে স্বামী-স্ত্রীসহ তিন রোহিঙ্গার রক্তাক্ত লাশ

তিনি আরো বলেন, গাছে আমের গুটি সুন্দর ভাবে রাখার জন্য গুটি ঝরা বন্ধ করা ও বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকার আক্রমন থেকে রক্ষার জন্য চাষিরা সবরকম পরিচর্যা করে যাচ্ছেন। মেীসুমী কর্মসংস্থানের জন্য হা করে বসে থাকেন অন্তত ১৮-২০ হাজার শ্রমিক।

সামটা গ্রামের মফিজুর রহমান বলেন, এবছর আম গাছে অনেক গুটি এসেছিল কিন্তু প্রচন্ড তাপে আমাদের সব স্বপ্ন পুড়ে যাচ্ছে। আমের গুটি তাপে সব ঝরে পড়ে যাচ্ছে। আমরা গাছের গোড়ায় পানি দিচ্ছি কিন্তু কোন লাভ হচ্ছে না।

হাড়িখালী গ্রামের আমজেদ আলী বলেন, আম যা হয়েছিল তাতে খুব খুশি ছিলাম কিন্তু প্রচন্ড তাপে আম সব ঝরে পড়ছে। এতে ২ লাখ টাকার বাগান ৮০হাজার টাকায়ও বিক্রি হবে না। জামতলার আব্দুস সালাম বলেন, আম ঝরে পড়ার পাশাপাশি আমে পঁচন দেখা যাচ্ছে। এবছরও লোকশান গুনতে হবে আমাদের।

বাগান মালিকদের বিঘা প্রতি অগ্রিম ৪০-৪৫ হাজার টাকা দিতে হয়। আবার বাগান পরিচর্যার কাজে প্রায় ১০-১২ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়। আম চাষে এখন লাভ তো দুরের কথা খরচের টাকাও উঠবে না। যদি আকাশের বৃষ্টি হত তাহলে হয়ত আম গুলো ঝরা বন্ধ হত।        

আরো পড়ুন: বিপণিবিতান ও দোকানপাট খোলা থাকবে রাত ৯টা পর্যন্ত

চলতি বছরে যশোর জেলার উপর দিয়ে রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে তাপ প্রভাহ। এমনটি চলতে থাকলে এবার আম মৌসুমে চাষিদের পথে বসতে হবে। এ পরিস্থিতিতে আকাশের বৃষ্টি হলে কিছুটা হলেও রক্ষা হবে বলে এমনটায় প্রত্যাশা আম চাষিদের।

তুষার / একটিভ নিউজ