×
  • ঢাকা
  • রবিবার, ১৩ জুন, ২০২১, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
Active News 24

মোবাইল চুরির অপবাদে শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতন


একটিভ নিউজ প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২১, ০৫:৩৫ পিএম মোবাইল চুরির অপবাদে শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতন
সংগৃহীত

ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুরে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতন শিকার শিক্ষার্থীর নাম  রিফাত (৯)। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সোস্যাল মিডিয়ায় ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

রামগোপালপুর ইউনিয়নের মধুবন আদর্শ গ্রামে (গুচ্ছগ্রাম) গত শুক্রবার (৪ জুন) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়টি স্থানীয়দের মাঝেই গোপন থাকে। পরে নির্যাতনের ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার দিলে তা ছড়িয়ে পড়ে।

রামগোপালপুর ইউনিয়নের মধুবন আদর্শ গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে নির্যাতনের শিকার রিফাত। সে স্থানীয় রামগোপালপুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে, শিশুটিকে মোটা দড়ি দিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতন করছেন এক নারী ও তার ছেলে।

আরো পড়ুন: স্ত্রীর অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ায় দুই এসআই’র বিরুদ্ধে মামলা

জানা গেছে অভিযুক্ত নারীর নাম ফাতেমা বেগম। তিনি ডৌহাখলা ইউনিয়নের তাতকুড়া গ্রামে মৃত বারেক ডাকাতের স্ত্রী। তার ছেলের নাম হিমেল (২৫)।

নির্যাতনের শিকার রিফাতের বাবা সুরুজ মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, গতমাসের শেষের সপ্তাহে ফাতেমা বেগমের ভাইয়ের স্ত্রী রিফাতকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গাছ থেকে আম পেড়ে দিতে বলেন। রিফাত আম পাড়ার জন্য গাছে উঠলে ফাতেমা ও তার ছেলে হিমেল রিফাতকে গাছ থেকে নামান। পরে তাকে পিটিয়ে আহত করা হয়। এরপর থেকে রিফাত সপ্তাহখানেক জ্বরে ভোগে।

রিফাতের বাবা সুরুজ মিয়া আরও বলেন, ‘জ্বর কিছুটা সেরে উঠলে গত শুক্রবার আমি বাড়িতে না থাকায় ফাতেমার ছেলে হিমেল রিফাতকে বাড়ি থেকে নিয়ে গাছের সঙ্গে গরুর রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করেন। পরে আমি বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে তাদের বাড়িতে গিয়ে রশি খুলে ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে আসি। গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানালে তারা বিচারের আশ্বাস দেন।’

আরো পড়ুন: এবার নতুন এক মাদকের সন্ধান পেল পুলিশ

মধুবন আদর্শ গ্রামের (গুচ্ছগ্রাম) সভাপতি জামাল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, আমি নির্যাতনের বিষয়টি মঙ্গলবার জানতে পেরেছি। বুধবার বিষয়টি নিয়ে বসার কথা ছিল। তবে, বসা হয়নি।
 ফাতেমা বেগম নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তবে, তার ছেলে হিমেল নির্যাতনের বিষয়টি স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার ঘর থেকে মোবাইল চুরির করার অপরাধে তাকে ধরে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখেছিলাম। পরে রিফাতের বাবা এসে আমাকে পিটিয়ে ছেলেকে নিয়ে যান।’

এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানতে চাইলে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মারুফ সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি জানা নেই। তবে, আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

সাইফুল বারী / একটিভ নিউজ