×
  • ঢাকা
  • শনিবার, ০৮ মে, ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮

রোজা রেখে চার তলায় না উঠায় ফুডপান্ডার রাইডারকে মারধর


একটিভ নিউজ প্রকাশিত: এপ্রিল ১৫, ২০২১, ১১:৫৫ পিএম রোজা রেখে চার তলায় না উঠায় ফুডপান্ডার রাইডারকে মারধর

সাভারে আব্দুল লতিফ নামে ফুডপান্ডার এক রাইডারকে মারধর করেছেন স্থানীয় একজন। রোজা থেকে খাবার নিয়ে চার তলায় না উঠায় ওই রাইডারকে মারধর করা হয়। এদিকে ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেছে।

ভুক্তভোগী আব্দুল লতিফ বৃহস্পতিবার বিকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, গতকাল বুধবার বিকাল ৫টার দিকে সাভার পৌরসভার বনপুকুরের মালঞ্চ আবাসিক এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় পাশের ভবনে থাকা এক ব্যক্তি এ ঘটনার ভিডিও করে তা ফেসবুকে আপলোড করলে এটি ভাইরাল হয়।

ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি সাইকেল নিয়ে ফুডপান্ডার রাইডার লতিফ দাঁড়িয়ে আছে। সুজন নামে সেই ব্যক্তি গালিগালাজ করছে। একপর্যায়ে মারধর শুরু করেছেন। প্রথমে কয়েকটি থাপ্পড় মারার পর একটি নারী এসে লতিফকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পরক্ষণে কথায় কথায় আবার মারধর শুরু করেন৷ পরে সুজনের সাথে থাকা আরেক ব্যক্তি লতিফকে মারধর করে তাড়িয়ে দেন৷

আরো পড়ুন: ‘আরিফ তোমার জন্য আমার কলঙ্ক’ লিখে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা 

এদিকে ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী লতিফ বলেন, বুধবার প্রথম রোজার দিন সুজন নামে এক ব্যক্তি খাবারের অর্ডার দিয়েছেন। আমি খাবার নিয়ে গিয়েছি। তিনি চার তলা যেতে বলেছিলেন, আমি রোজা ছিলাম- তাই যেতে চাইনি। পরে এসে নানা গালিগালাজ করে আমাকে মারধর করেন। আমার এই বিষয়টি ফুডপান্ডা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

অন্যদিকে সাইদুর রহমান সুজন ঘটনার বিষয়ে বলেন, আমি কাল ৫.১৫ মিনিটের দিকে একটি হালিমের অর্ডার দিয়েছিলাম। উনি আমার ভবনের সামনে এসে ফোন করেন। আমি তখন বলি, ভাই আমি একটু অসুস্থ আপনি খাবারটা একটু চার তলায় এসে দিয়ে যান। আমার পায়ে একটু অসুবিধা আছে, আমাকে একটু দিয়ে গেলে উপকার হবে। পরে সে বলে দেওয়া যাবে না। পরে আমি তাকে বলি, কোনোভাবে কি অর্ডার ক্যান্সেল করে দেওয়া যায় কিনা। তখন তিনি আমাকে বাজেভাবে বকা দেয়। আমার কথাটা শুনে খুবই খারাপ লেগেছে। পরে আমি নিচে নেমে তাকে সরি বলতে বলি, সে বলেনি। এর জন্য রাগ হয় আমার। এই হলো ঘটনা।

আরো পড়ুন: বাঘের মুখ থেকে ছেলেকে কেড়ে আনলেন বাবা

জানা গেছে, মারধর করা সেই ব্যক্তির নাম সাইদুর রহমান সুজন। তার বনপুকুরের মালঞ্চ আবাসিক এলাকায় একটি ইলেকট্রনিকস দোকান রয়েছে।

এ ঘটনার বিষয়ে ফুডপান্ডার সাভার জোনের এক কর্মকর্তার সাথে কথা হলে তিনি নাম প্রকাশ করার না শর্তে বলেন, আসলে বিষয়টি আমাদের হেড অফিসকে জানানো হয়েছে। আমরা এখনো সাভার জোন থেকে কোন আইনি কার্যক্রমে যাইনি। হেড অফিস যা করবে তাই হবে।

এদিকে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, আমাদের কাছে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

রেজাউল করিম / একটিভ নিউজ