×
  • ঢাকা
  • বুধবার, ১৯ মে, ২০২১, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

১০ বছর ধরে ভুয়া বিশেষজ্ঞ হিসেবে রোগী দেখেছেন তিনি


একটিভ নিউজ প্রকাশিত: এপ্রিল ২৭, ২০২১, ০৯:৫৪ এএম ১০ বছর ধরে ভুয়া বিশেষজ্ঞ হিসেবে রোগী দেখেছেন তিনি
সংগৃহীত

রেজিস্ট্রেশন নম্বর নকল করে ভুয়া সনদ তৈরি করে কুষ্টিয়ায় শুরু করেন চিকিৎসাসেবা। প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালে রোগী দেখে আসছিলেন। কখনো কখনো অস্ত্রোপচারও করেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার। র‌্যাবের হাতে আটক হয়ে বর্তমানে তিনি কারাগারে।

কুষ্টিয়ায় জেলা প্রশাসন ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইনের কোড জাল করে মানুষের সাথে প্রতারণার অপরাধে এইচ খান বিজয় নামের এক ভুয়া চিকিৎসককে আটক করা হয়।

 দণ্ডপ্রাপ্ত  এম কে এইচ সিলেটের ইস্ট-ওয়েস্ট মেডিকেলের ছাত্র বলে দাবি করেন জিজ্ঞাসাবাদে। ওই মেডিকেলে পড়াশোনা করেছেন, কিন্তু নানা জটিলতায় তিনি কোনো সনদ পাননি। সবকিছু গোপন করে কুষ্টিয়া শহরের বেশ কয়েকটি ক্লিনিকে চিকিৎসক সেজে রোগী দেখে ও অপারেশন করে আসছিলেন।

আরো পড়ুন: বলাৎকার করতে না পেরে শিশুকে মেরেই ফেলল যুবক

শহরের মোল্লাতেঘরিয়া এলাকার কুষ্টিয়া অর্থোপেডিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে র‌্যাব ও জেলা প্রশাসন যৌথ অভিযান চালিয়ে সোমবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে  তাকে আটক করা হয়। 

র‍্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে যে, অভিযানের সময় এম কে এইচ খান বিজয়ের সনদ যাচাই-বাছাই করে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল জাল কোড জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়। তাই তাকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। তাকে সহযোগিতা করার জন্য কুষ্টিয়া অর্থোপেডিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের মালিক সাইদুল ইসলামকে এক লাখ টাকা জরিমানাসহ অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ম্যাজিস্ট্রেট সবুজ হাসান ও কুষ্টিয়া র‌্যাব-১২-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মাহাফুজুর রহমান। এ সময় প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন: গণধর্ষণের পর বালু নদীতে ডুবিয়ে মারা হয়েছিল সেই তাহমিনাকে

ম্যাজিস্ট্রেট সবুজ হাসান সংবাদ মাধ্যমকে  বলেন, এম কে এইচ খান বিজয় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) ইস্যু করা একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর নকল করে ভুয়া সনদ তৈরি করেন। যাচাই করে দেখা যায়, এই আইডি সাতক্ষীরা জেলার একজন চিকিৎসকের, যিনি ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী।

ম্যাজিস্ট্রেট সবুজ হাসান বলেন, এম কে এইচ খান বিজয় এসএসসি পাসও করেননি। অথচ এমবিবিএস, এমসিপিএস ডিগ্রিধারী মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ দাবি করে আসছিলেন। বিএমডিসির রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নথিপত্র পর্যালোচনা করে তাকে ভুয়া চিকিৎসক হিসেবে নিশ্চিত করা হয়।

সাইফুল বারী / একটিভ নিউজ