×
  • ঢাকা
  • সোমবার, ০৮ মার্চ, ২০২১, ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭
Active News 24

নাসিরের বউয়ের সাত বছরের কারাদণ্ড!


একটিভ নিউজ | ডেস্ক: প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১, ০৬:০০ পিএম নাসিরের বউয়ের সাত বছরের কারাদণ্ড!
সংগৃহীত ছবি

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে বিয়ের জন্য সুন্দর একটা দিন ঠিক করেছিলেন। কিন্তু সুন্দর দিনের কাজটা সুন্দরভাবে শেষ হলো না নাসির হোসেনের। বিয়ের পরই জাতীয় দলের এক সময়ের মাঠ কাঁপানো অলরাউন্ডারকে নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা নাকি আগের স্বামীকে ডিভোর্স না দিয়েই নতুন বিয়েতে জড়িয়েছেন।

গত রবিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর উত্তরার একটি রেস্টুরেন্টে স্বল্প পরিসরে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন তিনি। বিয়ের অনুষ্ঠানে তার পরিবারের লোকজন এবং ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। 

জানা যায়, নাসিরের সহধর্মিণী তামিমা হোসেন তাম্মির এটাই প্রথম বিয়ে নয়। তার আরও একটি নয় দুটি নয় আছে চার চারটি স্বামী এবং সেইসাথে একটি সংসারে ৮ বছরের একটি কন্যাসন্তান আছে। 

তামিমার সেই স্বামীর নাম রাকিব হাসান। তার দাবি, তামিমার সাথে ১১ বছরের দাম্পত্য জীবন কাটিয়েছেন তিনি। তাদের ঘরে ৮ বছর বয়সী মেয়ে রয়েছে। তামিমা তাকে তালাক না দিয়েই ক্রিকেটার নাসিরের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিলেন রাকিব হাসান।

প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে বিয়ে ও ডিভোর্স রেজিস্ট্রেশন ডিজিটালাইজেশন করার নির্দেশনা চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে আদালতে। সোমবার ক্রিকেটার নাসিরের সদ্য বিবাহিত স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির আরেক স্বামী ভুক্তভোগী রাকিব হাসানসহ তিন ব্যক্তি মিলে একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে নোটিশটি পাঠানো হয়েছে। এ লিগ্যাল নোটিশে আইন সচিব, তথ্য ও প্রযুক্তি সচিব ও ধর্ম মন্ত্রণালয় সচিবকে এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

নোটিশ প্রেরণকারী অন্যরা হলেন, ‘এইড ফর ম্যান ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠন, ভুক্তভোগী সোহাগ হোসেন ও কামরুল হাসান। লিগ্যাল নোটিশটি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসানের মাধ্যমে পাঠানো হয়।

জিডিতে লেখা অনুযায়ী, রাকিব-নাসির ছাড়াও তামিমার ছিল আরেক সংসার। যেখানে তামিমা সংসার করেছেন মাত্র ৬ মাস। আর এটি হয়েছে রাকিবের সাথে সংসার চলাকালীন সময়েই।

৬ মাস সংসার করার পর রাকিবের কাছে ফিরে এসে ক্ষমাও চেয়েছিলেন তামিমা। তামিমা বলেছিলেন, কখনো এমন হবেনা। এরপর মেয়ের মুখের দিকে চেয়ে তাকে ক্ষমা করে দেয় রাকিব হাসান। কিন্তু এর কয়দিন পর নাসিরের সাথে সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ পায়।

স্বামী রাকিব হাসান বলেন, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তিন লাখ টাকা দেনমোহরে তামিমার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর অনেক বছর তামিমার পক্ষের কোনো আত্মীয়স্বজনের দেখা পাইনি। বছরচারেক আগে আমার ভাইয়ের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তামিমাকে সৌদি এয়ারলাইন্সে চাকরি পাইয়ে দিই। এই চাকরি পাওয়ার পর থেকেই সে (তামিমা) বদলে যেতে থাকে।

এ নিয়ে দেশজুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। যদি পূর্বের স্বামী রাকিব মামলা করেন তাহলে আইনে তামিমার কী হতে পারে আসুন জেনে নেই-

মুসলিম আইন অনুযায়ী, এ রকম বিয়ে বৈধ বলে গণ্য হবে না। এই বিয়ে বাতিল বা অবৈধ বিবাহ বলে গণ্য হবে।

এ বিষয়ে বরগুনা জজকোর্টের অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল সাইদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, অন্য কারো সঙ্গে বিয়ে করতে চাইলে প্রথমে তাকে ডিভোর্স নিতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট সময় অতিক্রমের পর সেই নারী বিয়ে করতে পারবে। চাইলেই ডিভোর্সের পরদিনই বিয়ে করতে পারবে না। এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আরো পড়ুন: স্বামী-সন্তান ছেড়ে নাসিরকে বিয়ে করার কারণ জানা গেলো

বিধান অনুযায়ী, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় বলা আছে, পূর্বের বিয়ে থাকা অবস্থায় কোনো স্ত্রী একাধিক বিয়েতে আবদ্ধ হলে ৭ (সাত) বছর কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড হতে পারে, আর ৪৯৫ ধারায় বলা আছে যদি পূর্বের বিয়ে গোপন করে তাহলে ১০ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

তবে ৪৯৪ ধারার একটা ব্যতিক্রম ছিল, যদি সাত বছর ধরে স্বামী নিরুদ্দেশ থাকে এবং জীবিত আছে এ রকম কোনো সন্ধান না পাওয়া যায় তাহলে দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবে। শর্ত হলো, নতুন বিয়েতে পূর্বের বিয়ের সকল ঘটনা সুস্পষ্টভাবে বলতে হবে।

এদিকে স্বামীও যদি একই কাজ করেন তাহলে তার জন্যও এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে ও তার ভরণপোষণ না দেয়া একটি ফৌজদারি অপরাধ।

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ৬ ধারামতে, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সালিশি পরিষদের কাছে অনুমতি না নিলে বিয়ে নিবন্ধন হবে না। আর তাই প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ বলে গণ্য হবে।

আরো পড়ুন: তামিমা চার বিয়ে করলেও স্বামী তিনজন!

এ অবস্থায় প্রতিকার পেতে আপনি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধি আইন-১৮৬০-এর ৪৯৪-এর বিধানমতে মামলা করতে পারেন। এ সময় স্বামী দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামা আদালতে দেখাতে হবে। আপনার স্বামীর অপরাধ প্রমাণিত হলে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এ ছাড়া সন্তান থাকলে আপনি তার ভরণপোষণ পাবেন। এ ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালতে ভরণপোষণ চেয়ে মামলা করতে পারেন।

ডেস্ক / একটিভ নিউজ