×
  • ঢাকা
  • শনিবার, ১২ জুন, ২০২১, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
Active News 24

বাইডেনের ফোন পেয়েই হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা নেতানিয়াহুর


একটিভ নিউজ প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২১, ০১:১১ পিএম বাইডেনের ফোন পেয়েই হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা নেতানিয়াহুর
সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গাজায় ইসরায়েলের সাম্প্রতিক তাণ্ডব শুরুর পর অন্তত দুই দফায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন। গত শনিবারও ফোনে কথা হয়েছে তাদের। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে বাইডেন বলেছেন, গাজা থেকে হামাস ও অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর রকেট হামলা ঠেকাতে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। তাদের এই অধিকারের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

বাইডেনের সাথে এই ফোনালাপের পর নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকবে। নেতানিয়াহু বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হামাসকে এমন বার্তা পাঠানো যে, পরের বার তারা চাইলেও আর রকেট হামলা চালাতে পারবে না। সেই সক্ষমতা তাদের থাকবে না।

এদিকে গাজায় ইসরায়েলি তাণ্ডবের ধারাবাহিকতায় গাজায় আল জাজিরার অফিস ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার মুখে পড়েছে ইসরায়েল। ১২ তলা বিশিষ্ট ওই ভবনটিতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি)-রও ব্যুরো কার্যালয় ছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কার্যালয় ছাড়াও আবাসিক কাজেও ব্যবহৃত হতো ভবনটি। শনিবার বিমান হামলা চালিয়ে ভবনটি পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

জো বাইডেনের সঙ্গে ফোনালাপে আল জালা নামের ওই ভবনটিতে হামলা নিয়েও কথা বলেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, হামাসের সঙ্গে যুক্ত নয় এমন ব্যক্তিদের আগেই সেখান থেকে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে ইসরায়েল।

এদিকে সংবাদমাধ্যমে হামলার ঘটনায় সমালোচনার মুখে এ নিয়ে কথা বলেছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জেন সাকি। জেন সাকি বলেন, এ বিষয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে, সাংবাদিক এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

আল জালা ভবনে হামলাকে সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে আল জাজিরা কর্তৃপক্ষ। আল জাজিরার ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ডক্টর মোস্তফা সোয়াগ বলেছেন যে, ‘আল জাজিরা এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত আল জালা টাওয়ারে হামলা স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আমাদের আহ্বান তারা যেন ইসরায়েলের এমন বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানায়। সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার জন্য তারা যেন ইসরায়েলকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসে।’

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শনিবার প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ফোনে কথা বলেছেন বাইডেন। ফোনালাপে গাজা থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামাসের রকেট হামলা থামানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

যে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, যেখানে নারী ও শিশুসহ দেড় শতাধিক মানুষকে তারা হত্যা করেছে, ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে হাজার হাজার মানুষ সেই গাজার শাসক দল হামাসের কোনও প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেননি বাইডেন। ফলে আব্বাসের তার ফোনালাপ কোনও কাজে আসবে না বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে এই দুই ফোনালাপের মাধ্যমে ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞের প্রতি মার্কিন সমর্থন স্পষ্ট করলেন তিনি।

এর আগে গত বুধবারও ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছিলেন বাইডেন। বাইডেন বলেন, ইসরায়েলের দিকে যখন হাজার হাজার রকেট ছুঁড়ে যায় তখন তাদেরও আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।

হামাস বলছে যে, ফিলিস্তিনিদের বলপূর্বক তাদের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে সেখানে ইহুদি বসতি স্থাপনের প্রতিবাদে ইসরায়েলে রকেট হামলা চালিয়েছে তারা। তবে নিজ বাড়িঘর থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি বাইডেন। গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচারে বিমান হামলায় নারী, শিশুসহ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়েও কোনও কথা বলেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এসব উপেক্ষা করে ইসরায়েলের ‘আত্মরক্ষা’র বয়ান হাজির করেছেন তিনি। সূত্র: বিবিসি, সিএনবিসি।

সাইফুল বারী / একটিভ নিউজ