×
  • ঢাকা
  • রবিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২১, ৯ কার্তিক ১৪২৮
Active News 24

মাঝ সমুদ্রে সন্তানদের বাঁচিয়ে মারা গলেন মা!


একটিভ নিউজ প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১, ০৪:৩৮ পিএম মাঝ সমুদ্রে সন্তানদের বাঁচিয়ে মারা গলেন মা!
সংগৃহীত

জনমানবহীন দ্বীপে পরিবার নিয়ে রোমাঞ্চকর ভ্রমণে গিয়েছিলেন মেরিলি চেকন নামের এক নারী। তিনি ভেনেজুয়েলার বাসিন্দা ছিলেন। কিন্তু মাঝ সমুদ্রে দুর্ঘটনায় পড়ে তাদের ইয়াট। 

দুর্ঘটনা কবলিত ভাঙা ইয়াটের অংশে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে টানা চারদিন বেঁচে থাকার জন্য প্রাণপণ লড়াই করেন ওই নারী। তবে শেষ পর্যন্ত নিজেকে রক্ষা করতে না পারলেও সন্তানদের বাঁচাতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। 

এ বিষয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে,  গত ৩ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভেনেজুয়েলা থেকে ক্যারিবীয় দ্বীপ লা তোর্তুগাতে বেড়াতে গিয়েছিলেন মেরিলি। তার ছেলে-মেয়েসহ মেরিলিরা সংখ্যায় নয়জন ছিলেন। তারা  থর দ্য হিগুরেতে নামের একটি ইয়াট ভাড়া করে সেখানে গিয়েছিলেন। 

সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, ৫ সেপ্টেম্বরই তাদের ফিরে আসার কথা থাকলেও ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা বেজে গেলেও ফেরেননি মেরিলিরা। তখন সন্দেহ হওয়ায় ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল মেরিটাইম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই সংস্থা। তাদের জানানো হয় গন্তব্যস্থলে ইয়াট পৌঁছায়নি, রওনাস্থলে ফিরেও আসেনি।

এরপর ৬ সেপ্টেম্বর মেরিলিদের যাত্রাপথে খোঁজ শুরু করে ভেনেজুয়েলার মেরিটাইম কর্তৃপক্ষ। অনুসন্ধানকারী দলটি দেখে লা অর্চিলা দ্বীপের কাছে ইয়াটের ভাঙা অংশ। ৭ সেপ্টেম্বর সকালে ওই দ্বীপ থেকে কিছুটা দূরে তারা দেখতে পান ইয়াটের একটা ভাঙা অংশ ভাসছে সমুদ্রে। তাতে দুই সন্তানসহ মেরিলিকে দেখতে পান তারা। তবে মেরিলিদের উদ্ধার করা গেলেও বাকি সদস্যরা এখনো নিখোঁজ।

নিউইয়র্ক পোস্ট জানায়, মেরিলির মারা গেলেও তার দুই সন্তান বেঁচে আছেন। মৃত্যুর আগে দুই সন্তানকে আঁকড়ে ধরে ইয়াটের ভাঙা অংশেই বাঁচার লড়াই চালিয়েছিলেন মেরিলি চেকন। মাঝ সমুদ্রে সূর্যের তাপে ডিহাইড্রেশন হওয়ার ভয় পেয়েছিলেন মেরিলিন। পানীয় জল ছিল না, খাবার ছিল না। তাই উপায় না দেখে নিজের প্রস্রাব পান করেছিলেন যাতে শরীর ডিহাইড্রেট হয়ে না যায়। আর ছেলে-মেয়েকে ডিহাইড্রেশন থেকে বাঁচাতে নিজের স্তন্যপান করিয়েছেন। তিন দিন সমুদ্রে এভাবেই কাটিয়েছেন। কিন্তু চতুর্থ দিন আর পারেননি। 

উদ্ধারকারীরা আসার আগেই ডিহাইড্রেশনেই মারা যান মেরিলি। তবে নিজের সন্তানদের বাঁচিয়ে গিয়েছেন তিনি। মায়ের নিথর দেহ আঁকড়ে দুই শিশুকে ভাসতে দেখেছিলেন উদ্ধারকারীরা। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

রেজাউল করিম / একটিভ নিউজ