×
  • ঢাকা
  • সোমবার, ১৭ মে, ২০২১, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

মৃত্যুপুরী ভারত, শ্মশানে জায়গা না মেলায় গণচিতা


একটিভ নিউজ প্রকাশিত: এপ্রিল ২৩, ২০২১, ১০:২১ পিএম মৃত্যুপুরী ভারত, শ্মশানে জায়গা না মেলায় গণচিতা
সংগৃহীত

মহামারি করোনায় বিপর্যস্ত সারা বিশ্ব। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে লাগামহীন ভাবে বেড়ে চলেছে সংক্রমণ। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, বাড়ছে লাশের সারি। একই চিত্র ভারতেও। কোনভাবেই আয়ত্তে আনা যাচ্ছে না সংক্রমণের হার। একের পর এক মৃত্যুতে নাজেহাল দেশটি। পরিস্থিতি এমন যে লাশ সৎকারের জায়গা নিয়ে পড়তে হচ্ছে সংকটে। সম্প্রতি রাজধানী দিল্লি থেকে সম্প্রতি এমনই এক দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেছে রয়র্টার্সের ড্রোন। সেখানে দেখা গেছে আবাসিক এলাকার পাশেই এক খোলা প্রান্তরে জ্বলছে সারি সারি চিতা। ছবিটি ইতোমধ্যে নেট দুনিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। সবার আশঙ্কা, ভারত কি সত্যিই করোনায় মৃত্যুপুরী হতে যাচ্ছে?

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৩ লাখ ৩২ হাজার মানুষ। যা বৃহস্পতিবারের তুলনায় ১৭ হাজার বেশি। এই সংখ্যা বিশ্বে একদিনে আক্রান্তের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ১ কোটি ৬২ লাখ ৬৩ হাজার ৬৯৫ জন করোনায় আক্রান্ত হলেন। শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

আরো পড়ুন: ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গে সবাইকে বিনামূল্যে টিকা দেবে বিজেপি

এদিকে রাজধানী নয়াদিল্লিসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যের হাসপাতালে অক্সিজেন সংকটের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যার ফলে ভেঙে পড়েছে চিকিৎসা ব্যবস্থা। এ অবস্থায় দেশটিতে ট্রিপল মিউট্যান্ট বা তিনবার রূপ পরিবর্তনকারী তিনগুণ বেশি শক্তিশালী নতুন করোনার সন্ধান মিলেছে। যা টিকা নিলেও প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এতে দেশটির চিকিৎসা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। ফলে হাসপাতাল থেকে লাশ সরাতে সরাতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন দেশটির কর্মীরা। 

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আবাসিক এলাকার পাশে জ্বলন্ত গণচিতার ওই ছবিটি সামনে এনেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তারা জানিয়েছে, শুধু শ্মশানই নয়, রাজধানীর কবরস্থানগুলোর অবস্থাও এক। মহদেহ সমাহিত করার জায়গা পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে করোনায় মৃতদের পরিবারকে।

আরো পড়ুন: অক্সিজেনের অভাবে এক হাসপাতালে ২৫ রোগীর মৃত্যু

চিতানির্গত ধোঁয়ায় ঝাপসা হয়ে আসা চোখ মুছতে মুছতে দিল্লির সীমাপুরীর বাসিন্দা নিতিশ কুমার জানান, কোভিডে আক্রান্ত হয়ে দু’দিন আগে তার মা মারা গিয়েছেন। কিন্তু কোনো শ্মশানে মায়ের মরদেহ দাহ করার জায়গা পাননি। বাধ্য হয়ে দু’দিন বাড়িতেই মায়ের মহদেহ রেখে দিয়েছিলেন তিনি। কোথায় দাহ করা যায়, জায়গা খুঁজছিলেন। শেষমেশ একটি পার্কিং লটে গড়ে ওঠা অস্থায়ী শ্মশানে মা-কে চিতায় তোলার জায়গা মেলে। 

এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘শহিদ ভগৎ সিংহ সেবা দল’-এর প্রধান জিতেন্দ্র সিংহ শান্টি বলেন, দিল্লিতে এমন দৃশ্য দেখতে হবে কেউ ভাবেনি। বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়ে, কারও বয়স ৫, কারও ১৫, কারও ২৫। তাদের দাহ করতে হচ্ছে। সদ্য বিবাহিত অনেকের দেহও শ্মশানে আসছে। চোখে দেখা যাচ্ছে না।

সীমাপুরীর পার্কিং লটে গড়ে ওঠা অস্থায়ী শ্মশানে বৃহস্পতিবার বিকেলে ৬০টি মহদেহ দাহ করা হয়েছে। জায়গা না পেয়ে আরও ১৫টি মরদেহ পড়েছিল বলেও জানান তিনি।

রেজাউল করিম / একটিভ নিউজ