×
  • ঢাকা
  • বুধবার, ১৯ মে, ২০২১, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

রায়হান হত্যাকান্ড: এসআই আকবরসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট


একটিভ নিউজ প্রকাশিত: মে ৫, ২০২১, ১১:৫৬ এএম রায়হান হত্যাকান্ড: এসআই আকবরসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
ফাইল ছবি

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড রায়হান আহমদ হত্যা। বন্দর বাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে নিহত যুবক রায়হান আহমদ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র  আজ বুধবার  (৫ মে) আদালতে দাখিল করবে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অভিযোগপত্রে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরকে প্রধান আসামি করে ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।

পিবিআইর সিলেট জেলার পুলিশ সুপার খালেদ-উজ-জামান এই তথ্য নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, অভিযোগপত্রটি যাতে ত্রুটিমুক্ত থাকে তাই সময় নিয়ে তদন্ত শেষে তা বুধবার (৫ মে) বুধবার দুপুরে আদালতে জমা দেওয়া হবে।

এদিকে, রায়হানের মা সালমা বেগম ছেলেকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যাকারীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আরো পড়ুন: রিকশাচালককে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, নির্যাতনকারী আটক

রায়হান হত্যার ঘটনাক্রম: নরেরর আখালিয়া নিহারিপাড়ার বাসিন্দা রায়হানকে ১০ অক্টোবর রাতে সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। কাষ্টঘর সুইপার কলোনি থেকে তাকে ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে যান এই ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ও তার সহকারীরা। এরপর কয়েক ঘণ্টা চলে নির্যাতন। শেষ রাতে এক পুলিশ সদস্যের মোবাইল থেকে নিজের চাচাকে ফোন করে রায়হান। এসময় তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে দ্রুত ১০ হাজার টাকা নিয়ে ফাঁড়িতে আসার জন্য চাচাকে অনুরোধ করে। ভোরের ফজরের নামাজের পূর্ব মূহূর্তে টাকা নিয়ে ফাঁড়িতে হাজির হন চাচা। তবে তখন তাকে রায়হানের সাথে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। এরপর ১১ অক্টোবর সকালে আবার চাচা ফাঁড়িতে গেলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অসুস্থ হয়ে পড়ায় রায়হানকে ওসমানী হাসপাতপালে পাঠানো হয়েছে। পরে হাসপাতালের মর্গে গিয়ে রায়হানের মরদেহ দেখতে পায় পরিবার।

ভিন্নখাতে প্রবাহিতের চেষ্টা: রায়হানের মৃত্যু জানাজানি হওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কাষ্টঘর এলাকায় ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন রায়হান। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। বন্দুর বাজার ফাঁড়ির কর্মকর্তা ও সিলেট মহানগর পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সকাল থেকে গণমাধ্যমে এমন খবরও প্রকাশ হয়।

পরিবার ও এলাকাবাসীর বিক্ষোভ : নগরীতে গণপিটুনিতে ছিনতাইকারীর মৃত্যু- বিভিন্ন গণমাধ্যমে যখন এমন খবর প্রকাশ হচ্ছিলো, তখন ভিন্ন তথ্য নিয়ে সামনে আসে নিহত যুবক রায়হান আহমদের পরিবার ও আখালিয়া এলাকাবাসী।

রায়হানের বাসার সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে তারা জানান, ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে টাকার জন্য নির্যাতন চালিয়ে রায়হানকে হত্যা করেছে পুলিশ।

আরো পড়ুন: বেশি টাকা আয়ের লোভে চাকরি ছেড়ে ঘরে বসে বানান জাল টাকা তারা!

পরিবারের এমন বক্তব্য গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশ হয়। এতে পর নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। আর পরিবার ও এলাকাবাসীর মাধ্যমে শুরু হওয়া রায়হান হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে পুরো সিলেটজুড়ে।

আকবর গ্রেপ্তার: নানা সমালোচনা ও তীব্র আন্দোলনের মুখে গতবছরের ৯ নভেম্বর কানাইঘাট সীমান্ত থেকে আকবরকে গ্রেপ্তার করে সিলেট জেলা পুলিশ। ভারতে পালানোর সময় সাদা পোশাকের পুলিশ তাকে আটক করে বলে সেসময় জানিয়েছিলেন সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।

তবে আরেকটি সূত্র জানায় যে, ভারতের সীমান্তের ভেতরে স্থানীয় খাসিয়ারা আকবরকে আটক করে বাংলাদেশ সীমান্তে নিয়ে এসে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। আকবরকে কানাইঘাট সীমান্তের ওপারে ভারতের একটি খাসিয়া পল্লীতে আটকের একটি ভিডিও ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়ে।

আকবরকে গ্রেপ্তারের পরদিন ১০ নভেম্বর তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পিবিআই। এরআগে এই ঘটনায় গ্রেপ্তার অন্য পুলিশ সদস্যদেরও রিমান্ডে নেওয়া হয়। তবে রিমান্ড শেষে তারা কেউই আদালতে স্বীকারোক্তিমলক জবানবন্দি দেননি।

সাইফুল বারী / একটিভ নিউজ