×
  • ঢাকা
  • বুধবার, ১৯ মে, ২০২১, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

শফী রাষ্ট্রপতি-বাবুনগরীকে প্রধানমন্ত্রী করে হেফাজতের মন্ত্রিসভা!


একটিভ নিউজ প্রকাশিত: মে ৩, ২০২১, ১০:০১ পিএম শফী রাষ্ট্রপতি-বাবুনগরীকে প্রধানমন্ত্রী করে হেফাজতের মন্ত্রিসভা!
সংগৃহীত

হেফাজতে ইসলামের আত্মপ্রকাশ হয়েছিল অরাজনৈতিক এক দল হিসেবে। রাজনৈতিক সকল কর্মকান্ড থেকে দূরে থাকার কথা থাকলেও ক্ষমতার মোহে গোপনেই রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল তারা। রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সামনে রেখে পর্যায়ক্রমে চালানো হয় সহিংসতা।

সম্প্রতি দেশজুড়ে তাণ্ডবের ঘটনায় গ্রেফতার হেফাজত নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদে এমনই তথ্য বেরিয়ে আসে। জানা যায় দলটির সরকার বিরোধী নানা পরিকল্পনার কথা। শুধু সহিংসতার মাধ্যমে সরকার পতনই নয়, ক্ষমতায় গেলে নিজেদের সরকার গঠনের রূপরেখাও চূড়ান্ত করেছিলো দলটি।

এ বিষয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, হেফাজতের সবচেয়ে আলোচিত নেতা মামুনুল হককে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর থেকে ক্ষমতায় যেতে প্রায় চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছিলো হেফাজত। এ প্রস্তুতির মূল অংশ হিসেবে সাম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীসহ তথাকথিত মন্ত্রিসভার জন্য দলের নেতাদের নাম চূড়ান্ত করা হয়।

আরো পড়ুন: আরও ৪-৫ নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ছিল মামুনুলের : পুলিশ

সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি ছিলো হেফাজত ইসলামের কল্পিত মন্ত্রিসভা। ৫ মে শাপলা চত্বর থেকে হেফাজতের নেতা-কর্মীরা বিতাড়িত হলে পরের দিনই হয়ত একটা ‘তালেবান রাষ্ট্রের মতো’ রাষ্ট্র কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা ছিলো তাদের।

দেশজুড়ে তাণ্ডবের ঘটনায় গ্রেফতার হেফাজত নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদ সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা এ বিষয়ে জানান, শাপলা চত্বরের ঘটনার আগে তারা জুনায়েদ বাবুনগরীকে প্রধানমন্ত্রী এবং আল্লামা আহমদ শফিকে রাষ্ট্রপতি করার পরিকল্পনা করে। সিনিয়র নেতাদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব বণ্টন করে একটি মন্ত্রিপরিষদ কাঠামোও গঠন করা হয়েছিলো।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৫ মে তাণ্ডবের ঘটনায় দায়েরকৃত একটি মামলায় বর্তমানে তিন দিনের রিমান্ডে রয়েছেন হেফাজত নেতা মামুনুল হক। পুলিশ জানায়, মামুনুলকে জিজ্ঞাসাবাদে ওই সময়কার পরিকল্পনা এবং সহযোগিদের বিষয়ে নানা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

আরো পড়ুন: জান্নাতের জন্য ফাঁসিতে ঝুলবেন মামুনুল হক!

৫ মে শাপলা চত্বরে জমায়েতের সময় ঢাকার অন্যতম প্রবেশপথ গাবতলী এলাকার দায়িত্বে ছিলেন মামুনুল হক। তার সমর্থক ও নেতাকর্মীদের ঢাকায় প্রবেশ করিয়ে দুপুরের দিকে তিনি শাপলা চত্বরে যান। সেখানেই শীর্ষ নেতাদেরর মধ্যে একটা মিটিং হয়। মিটিংয়ে বিএনপি এবং জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে একযোগে মাঠে কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়।

এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে মামুনুল হক জানান, হেফাজত প্রথমে ১৩ দফা দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু তারা এক পর্যায়ে রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। তাদের চিন্তা ছিলো, রাষ্ট্রের মূল কাঠামো নিয়ন্ত্রণে না এলে ১৩ দফা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম এ বিষয়ে জানান, ২০১৩ সালের ৫ মের ঘটনায় দায়েরকৃত একটি মামলায় মামুনুলকে তিন দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সেদিনের ঘটনায় হেফাজতের পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বিভিন্ন দলের যোগসূত্রের বিষয়ে বিভিন্ন বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরো পড়ুন: বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক, মামুনুলের বিরুদ্ধে ঝর্ণার মামলা

তিনি বলেন, ঘটনা তদন্তে বাবুনগরীর জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকেও আসামি করে চার্জশিট দেওয়া হবে। আমরা শুধু দেখবো যে, অপরাধের মানদণ্ডে তিনি অপরাধী কিনা এবং তার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণের সুস্পষ্ট তথ্য উপাত্ত আমাদের হাতে আছে কিনা। তথ্য উপাত্ত যদি সংগৃহীত হয়, তাহলে তাকে আমরা মামলার আসামি হিসেবে গণ্য করবো।

এদিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সূত্র ৫ মে তান্ডবের বিষয়ে জানায়, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে কর্মসূচির মাধ্যমে সরাসরি সরকার পতনের ষড়যন্ত্র করেছিল হেফাজতে ইসলাম। আর এই ষড়যন্ত্রে হেফাজতের সঙ্গী ছিল তৎকালীন বিরোধীদল জামায়াত-বিএনপি জোট।

উল্লেখ্য, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসা থেকে গত ১৮ এপ্রিল মামুনুল হককে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ২৬ ও ২৭ মার্চ দেশের বিভিন্ন স্থানে চালানো হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের ঘটনায় মামুনুল হকসহ হেফাজতের নেতৃত্ব পর্যায়ের অন্তত ২০ জনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪

রেজাউল করিম / একটিভ নিউজ