×
  • ঢাকা
  • শনিবার, ১২ জুন, ২০২১, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
Active News 24

কোয়ারেন্টাইনে ধর্ষণে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে বাঁচাতে দুর্বল এজাহার!


একটিভ নিউজ প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২১, ০৮:০৯ পিএম কোয়ারেন্টাইনে ধর্ষণে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে বাঁচাতে দুর্বল এজাহার!
সংগৃহীত

খুলনায় কোয়ারেন্টাইনে থাকা ভারতফেরত এক নারীকে ধর্ষণের আলামত মিলেছে। মেডিকেল পরীক্ষা ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এ আলামত মিললেও মামলার এজাহারে দুর্বলতা থাকায় আসামি এএসআই মোকলেসুর রহমানের সর্বোচ্চ শাস্তি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা।

এর আগে গত ১৪ মে রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশের এএসআই মোকলেসুর রহমান ধর্ষণ করে কোয়ারেন্টাইনে থাকা ভারত ফেরত এক নারীকে। এ অভিযোগে ওই নারী গত ১৮ মে খুলনা থানায় মামলা দায়ের করলে মোকলেসুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর মেডিকেল পরীক্ষা ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. বিধান চন্দ্র ঘোষ বলেন, পরীক্ষা করে জানা যায় যে এটি যৌন মূলক কেস। বিধি মোতাবেক গাইনি ওয়ার্ডের ডাক্তাররা তাকে ওসিসিতে প্রেরণ করেন।

আরো পড়ুন: নেত্রকোনায় বজ্রপাতে একদিনে ৫ জনের মৃত্যু

এদিকে মামলার এজাহারে স্পষ্ট অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হলে এজাহারে ৯ এর ১ ধারা অনুযায়ী মামলাটি রজু করতে হবে। কিন্তু বাদীর খুলনা থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে ৯ এর ৫ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আইনজীবীরা জানান, এতে করে আসামীর মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড না হয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। দুর্বল মামলা সাজানোর জন্য সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের ব্যর্থতাকে দুষছেন তারা।

মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার বিভাগীয় সমন্বকারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, থানার ওসি কিভাবে এটি করেছে, তার তো  ৯ এর ১ ধারা অনুযায়ী মামলাটি রজু করা উচিত ছিল।

আরো পড়ুন: যমুনায় ডুবে গেল তিন বোনের প্রাণ

তিনি মনে করেন, এজাহারে এ ধরনের অসঙ্গতি আসামিকে বাঁচানোর চেষ্টা।

অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ৯ এর ৫ ধারায় এ মামলার চার্জশিট হয় তাহলে বাদি কোনো অবস্থায় ন্যায় বিচার পাবেন না। তখন আসামিপক্ষের জোরালো আবেদন থাকবে  আসামি দায়িত্ব অবহেলা করেছে তিনি অবশ্যই ধষর্ণের সঙ্গে জড়িত না।  

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল আলম জানান, এ ঘটনায় যে ধারা উল্লেখ করা হয়েছে সেটা ঠিক আছে। ৯ এর ৫ তো পুলিশ হেফাজতে কেউ ধর্ষণ হয় সেইটা, সেটাই তো ধর্ষণই তো, আমার আসামি তো একজন, ধর্ষণের মামলাই তো নেয়া হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ওই নারীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

সাইফুল বারী / একটিভ নিউজ