ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ মাঘ ১৪২৭, ১৯ জানুয়ারী, ২০২১

Facebook Twitter Youtube

Logo

অবৈধ গর্ভপাত করিয়ে কোটিপতি নার্স!

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক নার্স অবৈধ গর্ভপাতের কাজ করে কোটিপতি হয়েছেন। এ নিয়ে এলাকায় মানুষের নানা সমালোচনা রয়েছে। একসময় এসব কাজ করলেও এখন মানবতার তাড়নায় তা করছেন না বলে জানিয়েছেন অভিযুক্ত নার্স মমতাজ বেগম। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন সিভিল সার্জন। মমতাজ বেগম ফুলপুর

ডেস্ক: একটিভ নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০২০, ০৬:০৫
Nurse

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক নার্স অবৈধ গর্ভপাতের কাজ করে কোটিপতি হয়েছেন। এ নিয়ে এলাকায় মানুষের নানা সমালোচনা রয়েছে।

একসময় এসব কাজ করলেও এখন মানবতার তাড়নায় তা করছেন না বলে জানিয়েছেন অভিযুক্ত নার্স মমতাজ বেগম। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।

মমতাজ বেগম ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দিউ এলাকায় বসবাস করেন। তার স্বামী আবু বকর সিদ্দিক ওরফে সিদ্দিক মাষ্টার। তাদের দুই মেয়ে রয়েছে।

আরো পড়ুন:বিয়ের আসরে পাল্টে গেল বউ, কনে সাজলেন ভাবি

আয়েশা খাতুন (ছদ্মনাম) ফুলপুর পৌর শহরের বাসিন্দা। ২০১৪ সালে কলেজে পড়াকালীন সময় প্রেম হয় স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর সাথে। প্রেমের ছয় মাস পর শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন তারা। পেটে আসে বাচ্চা। বয়স হয় ৮ সপ্তাহ। চিন্তায় মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন তারা। একজনের পরামর্শে উপায় খোঁজার জন্য স্বরনাপন্ন হন নার্স মমতাজ বেগমের।

সমাধানের পথও পান। ৬ হাজার টাকায় গর্ভপাত করান আয়েশা খাতুন। শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে কিনেন আরো ২৩শ টাকার ওষুধ। কিছুদিন ওষুধ খাওয়ার পর শারীরিক দুর্বলতা কিছুটা সাড়লেও জরায়ুতে প্রায় ব্যাথা হয় তার। এ ঘটনার দুই বছর পর বিয়ে হয় আয়েশা খাতুনের। কিন্তু গর্ভে এখনও বাচ্চা আসেনি। বিভিন্ন চিকিৎসক দেখিয়েও কোন লাভ হয়নি।

এজন্য তিনি অপরিকল্পিত এভয়েশন করানোকেই দায়ী করছেন। তিলে তিলে নিজেকে কষ্ট দিচ্ছেন। তার জানামতে অনেক যুবক-যুবতীরা গর্ভপাত করান নার্স মমতাজ বেগমকে দিয়ে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, প্রাইভেট ক্লিনিক এবং বাসা বাড়িতে কন্ট্রাকে গর্ভপাতের কাজ করেন মমতাজ বলে জানান আয়েশা খাতুন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন নার্স বলেন, মমতাজ বেগমের কাছাকাছি সময়ে চাকরীতে যোগদান করেও তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আর মমতাজ বেগম হাসপাতাল সংলগ্ন জায়গা কিনে ৪তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে এক তলা সম্পূর্ণ করেছেন। ময়মনসিংহ নগরীর চয়না মোড়ে ৬ শতাংশ জমি কিনেছেন।

যার বাজার মূল্য কোটি টাকা।

তার স্বামী আবু বকর সিদ্দিক একটি কিন্ডার গার্টেনে শিক্ষকতা করে সামান্য সম্মানী পান। সব কিছুই মমতাজ বেগম তার অবৈধ টাকায় করেছেন। যেসব করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

তার ফুলপুর, হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া এবং তারাকান্দায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। যাদের মাধ্যমে গর্ভপাতের কাজ গুলো করে থাকেন। একেকটা গর্ভপাতের কাজ করতে ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন।

তার এসব কাজের কথা মোটামুটি সবাই জানে। অনেকেই গর্ভপাত করাতে গিয়ে সমস্যায়ও পড়েছেন। কিন্তু মমতাজ বেগম সব কিছুতেই ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এছাড়াও হাসপাতালে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তিনি ভোগ করে থাকেন।

স্থানীয় রুহুল আমিন ও মোহাম্মদ আলী বলেন, ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্স মমতাজের মতো অনেকেই আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে। আমরা এর সঠিক তদন্ত পূর্বক বিচার চাই। মমতাজের বিষয়টি সামনে আসলেই, বাকিদেরও আসবে।

মমতাজের আসকাড়া পেয়েই এ সমাজের অনেক যুবক-যুবতী নষ্ট হয়েছে।

অভিযুক্ত নার্স মমতাজ বেগমের স্বামী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, তিনি ফুলপুরে একটি কিন্ডার গার্টেনে শিক্ষকতা করছেন। প্রাইভেট শিক্ষক হিসেবে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়িয়ে সংসারে স্ত্রীর পাশাপাশি তিনিও সহযোগিতা করছেন। একসময় তার স্ত্রী গর্ভপাত করালেও বছর দুয়েক ধরে তা আর করছেন না বলে দাবি করেন আবু বকর সিদ্দিক।

আরো পড়ুন:টাঙ্গাইলে স্বামীর যৌনসঙ্গমের নেশায় প্রাণ গেলো কিশোরী স্ত্রীর

অভিযুক্ত নার্স মমতাজ বেগম বলেন, ২৫ বছর ধরে তিনি সুনামের সহিত ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাকরী করছেন। এক সময় তিনি গর্ভপাত করানোর কাজ করতেন।

এখন বিবেকের তাড়নায় তা আর করছেন না। গর্ভপাত করানোর টাকা দিয়েই ফুলপুরে একতলা বাড়ি এবং ময়মনসিংহ শহরে কিছু জায়গা কিনেছেন। তবে তিনি অন্যায় কিছু করেননি বলেও দাবি করেন।

ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার চিকিৎসক প্রাণেশ চন্দ্র পন্ডিত বলেন, তিনি যোগদান করার পর গর্ভপাত করানো নিয়ে মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে তা তদন্ত করে সত্যতা পায়। এ বিষয়ে তাকে সতর্কও করা হয়। এসব করবে না বলে সে অঙ্গীকারও করে। তার জানামতে মমতাজ এখন গর্ভপাত করে না।

তবে যদি কোন প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান এই চিকিৎসক।

বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন (বিএনএ) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখার সভাপতি লুৎফুর রহমান বলেন, একজন নার্সের দায়িত্ব রোগীর সেবা করা। গর্ভপাত করানো তার দায়িত্ব না। তবে এ বিষয়ে সে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হলে চিকিৎসকের অনুমতি ক্রমে করতে পারবে। অন্যথায় সে অপরাধী বলে গণ্য হবে।

ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন এবিএম মসিউল আলম বলেন, চিকিৎসকের অনুমতি ক্রমেই একজন প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নার্স গর্ভপাত করাতে পারেন। তবে কেউ গণহারে এসব করতে পারবে না।

মমতাজ বেগমের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। যদি সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



একটিভ নিউজ / কে এস
×
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক নার্স অবৈধ গর্ভপাতের কাজ করে কোটিপতি হয়েছেন। এ নিয়ে এলাকায় মানুষের নানা সমালোচনা রয়েছে। একসময় এসব কাজ করলেও এখন মানবতার তাড়নায় তা করছেন না বলে জানিয়েছেন অভিযুক্ত নার্স মমতাজ বেগম। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন সিভিল

Active News logo
    Active news app

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ আজিজুর রহমান
সহ-সম্পাদক: বি, এম বাবলুর রহমান
উপদেষ্টা: এ‍্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
উপদেষ্টা: জাহাঙ্গীর আকন্দ
প‍্যারামাউন্ট হাইটস, পল্টন, ঢাকা-১০০০।
টেলিফোন: ০২-৪৮৯৫৭৯৬৭
মোবাইল: ০১৭১৬-৪৬৫৬১৬
ইমেইল: activenewsoffice@gmail.com