ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৭ মাঘ ১৪২৭, ২১ জানুয়ারী, ২০২১

Facebook Twitter Youtube

Logo

অনিয়ম ও দুর্নীতিতে তলাচ্ছে রেল খাত!

কোনো কিছু কেনার নাম করেই টাকা মেরে দেয়া, নিয়োগে দুনম্বরী, কোচ-ইঞ্জিন কেনার নাম করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি, তেলচুরি, টিকিট বিক্রিতে কালোবাজারি, একের পর এক দুর্নীতিতে তলাচ্ছে রেল রেল খাত। আর এই মাত্রাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে বিপুল পরিমাণ অর্থ যেমন লোপাট হচ্ছে, তেমনি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে উন্নয়নের গতি। ঠিকমতো কাজ

ডেস্ক: একটিভ নিউজ:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০, ১০:৩১
অনিয়ম ও দুর্নীতিতে তলাচ্ছে রেল খাত!
ফাইল-ফটো

কোনো কিছু কেনার নাম করেই টাকা মেরে দেয়া, নিয়োগে দুনম্বরী, কোচ-ইঞ্জিন কেনার নাম করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি, তেলচুরি, টিকিট বিক্রিতে কালোবাজারি, একের পর এক দুর্নীতিতে তলাচ্ছে রেল রেল খাত। আর এই মাত্রাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে বিপুল পরিমাণ অর্থ যেমন লোপাট হচ্ছে, তেমনি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে উন্নয়নের গতি। ঠিকমতো কাজ না করায় একের পর এক দুর্ঘটনায় পড়ছে সাধারণের পছন্দের পরিবহন রেলগাড়ি। রেলের উন্নয়নের জন্য ঋণ করে আনা অর্থের বেশির ভাগ অংশ মেরে খাওয়ার প্রক্রিয়ায় সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও জড়িয়ে পড়েছেন। সম্প্রতিই রেলের নানা অনিয়মের নথি ঘেঁটে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন যে, রেল খাতের দুর্নীতি না থামানো পর্যন্ত এর কোনো উন্নতি হবে না। অথচ জনপ্রিয় এই পরিবহনের উন্নতির জন্য কর্তাব্যক্তিরা দিনের পর দিন শুধু প্রতিশ্রæতিই দিয়ে এসেছেন।

কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বছর দুয়েক আগে রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে নূরুল ইসলাম সুজনও হুংকার ছেড়ে বলেছিলেন, রেলের দুর্নীতি তিনি শূন্যে নামিয়ে আনবেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানিয়ে তিনি বলেছিলেন যে, এখানে দুর্নীতি করে কেউ টিকতে পারবে না। তবে দুর্নীতি থামেনি; কাক্সিক্ষত উন্নয়নও হচ্ছে না রেলের।

রেলের কেনাকাটার বিভিন্ন নথি ঘেঁটে দেখা যায় যে, গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে রেলের আধুনিকায়নের নামে তালা, বাঁশি, বালতি ও ঝাণ্ডাসহ ২০ ধরনের পণ্য কেনাকাটায় ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে তদন্ত রিপোর্টে উঠে এসেছে। এর ফলে কয়েক কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। এ ঘটনার পর রেল মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি করে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবদুর রহিমকে প্রধান করে গঠন করা ওই কমিটি রেলমন্ত্রীর কাছে গত ৯ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেনাকাটায় টাকা মেরে দেয়ার সঙ্গে রেলের ১৭ কর্মকর্তা জড়িত। এদের মধ্যে চার জনকে বরখাস্তসহ বিভাগীয় ও ফৌজদারি মামলা এবং ১৩ জনের বিরুদ্ধে শুধু বিভাগীয় মামলা করার কথা বলা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরো বলা হয় যে, রেলের জন্য ১৩৩ টাকার তালা কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৫০০ টাকায়, ২০০ টাকার বালতি ১ হাজার ৮৯০ টাকায়, ৫০ টাকার বাঁশি ৪১৫ টাকায় এবং ৭৫ টাকার ঝান্ডা কেনা হয়েছে ১ হাজার ৪৪০ টাকায়। একইভাবে অন্যান্য পণ্যও কেনা হয়েছে বাজারমূল্যের চেয়ে ১৫ থেকে ৩৩ গুণ বেশি দরে।

আরো পড়ুনঃ ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়ে প্রেমিকার আত্মহত্যা!

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে যে, ওই অর্থবছরে রেলের কেনাকাটার জন্য তালিকাভুক্ত ঠিকাদার রয়েছেন ১৬৬ জন। কিন্তু পণ্য কেনার জন্য মাত্র ৬ জন ঠিকাদারের কাছে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে।

১৬৬ জনের মধ্যে মাত্র ৬ জন ঠিকাদারকে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে পণ্য কেনাকাটার বিষয়টিও গুরুতর আর্থিক অনিয়ম হিসেবে দেখেছে তদন্ত কমিটি।

আরো পড়ুনঃ মানিকগঞ্জে এক স্ত্রী করছেন ২ স্বামীর সাথে সংসার!

জানতে চাইলে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন গতকাল বলেছেন, রেলের জন্য মালামাল কেনাকাটার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি আমার কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে তারা বেশ কিছু অনিয়ম প্রমাণসহ তথ্য তুলে ধরেছে। এ জন্য কয়েকজনকে দোষি সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাদের শাস্তির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।



একটিভ নিউজ / সাইফুল বারী
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

কোনো কিছু কেনার নাম করেই টাকা মেরে দেয়া, নিয়োগে দুনম্বরী, কোচ-ইঞ্জিন কেনার নাম করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি, তেলচুরি, টিকিট বিক্রিতে কালোবাজারি, একের পর এক দুর্নীতিতে তলাচ্ছে রেল রেল খাত। আর এই মাত্রাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে বিপুল পরিমাণ অর্থ যেমন লোপাট হচ্ছে, তেমনি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে

Active News logo
    Active news app

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ আজিজুর রহমান
সহ-সম্পাদক: বি, এম বাবলুর রহমান
উপদেষ্টা: এ‍্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
উপদেষ্টা: জাহাঙ্গীর আকন্দ
প‍্যারামাউন্ট হাইটস, পল্টন, ঢাকা-১০০০।
টেলিফোন: ০২-৪৮৯৫৭৯৬৭
মোবাইল: ০১৭১৬-৪৬৫৬১৬
ইমেইল: activenewsoffice@gmail.com