×
  • ঢাকা
  • সোমবার, ১৭ মে, ২০২১, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

চাঁদাবাজির সময় ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাকে আটকে রাখলো জনতা


একটিভ নিউজ প্রকাশিত: এপ্রিল ৭, ২০২১, ০২:৫১ পিএম চাঁদাবাজির সময় ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাকে আটকে রাখলো জনতা
সংগৃহীত

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইনচার্জ বিজন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের নামে বিভিন্ন দোকান থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। এ সময় বিক্ষুব্দ দোকানদাররা তাকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখেন।

পরে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে যান জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক। এসময় বেশ কয়েকজন দোকানদারের টাকাও ফেরত দেয়া হয়।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বালিরটেক বাজারে মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিন বুধবার (৭ এপ্রিল) সকালে ঘটনা তদন্তে গেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বালিরটেক বাজারের ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে বিজন বিশ্বাসকে বিক্ষুব্দ জনতা আটকে রাখার সময়ের একটি ভিডিও গণমধ্যমের কাছে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, বিপুল সংখ্যাক মানুষ উপস্থিত হয়ে জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক শরীফুল ইসলামের কাছে বিজন বিশ্বাসের চাঁদাবাজির বিষয়টি জানাচ্ছেন। এসময় বাজারের কয়েকজনের দোকানদারের নাম ডেকে চাঁদার টাকা ফেরত দেয়ার দৃশ্যও দেখা যায়।

আরো পড়ুন: লকডাউনে চলবে গণপরিবহন, কিছুই জানে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএ

হরিরামপুর উপজেলার বলড়া বাজারের মুদি দোকান ও সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে জানান, বিজন বিশ্বাস নিজেকে প্রথমে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা পরিচয় দেন। এরপর বলেন লাইসেন্স ছাড়া গ্যাস বিক্রি করছেন আপনার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। পরে তাকে ভয় দেখিয়ে ৩৫০০ টাকা নিয়ে যান।

ব্যবসায়ী মোতালেব বলেন, তার মতো বাজারের আরো দুই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন তিনি।

সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবসায়ী তামিম খান জানান, তার কাছ থেকেও বিজন বিশ্বাস মোবইল কোর্টের ভয় দেখিয়ে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। এ সময় ভিজিটিং কার্ডে মোবাইল নম্বর লিখে দিয়ে মোবাইল কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট এলে তা প্রদর্শন করার কথা বলেন তিনি।

আরো পড়ুন: লকডাউন না মানায় ৩০০ বার উঠবস, মারা গেল যুবক

একই কায়দায় তিনি হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা, আন্ধারমানিক, বলড়া, পিপুলিয়া, কাণ্ঠাপাড়া, দানিস্তপুর, কোকরহাটিসহ বিভিন্ন দোকান থেকে ৫০০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পযর্ন্ত চাঁদা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়রা সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার বালিরটেক বাজারের বিভিন্ন দোকানে চাঁদা দাবি করলে দোকানদের সাথে বিজন বিশ্বাসের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দোকানদাররা সরকারের জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। তাদের সহযোগিতায় মানিকগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্তব্যরত অফিসারদের সাথে কথা বলে তারা নিশ্চিত হন সদর উপজেলা থেকে কাউকে এমন কাজের জন্য পাঠানো হয়নি। পরে স্থানীয়রা ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে বিজন বিশ্বাসকে আটকে রাখেন।

খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস বিভাগের উপসহকারী পরিচালক শরীফুল ইসলাম ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হয়ে সকালের কাছে ক্ষমা চান। একইসাথে বিজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।

আরো পড়ুন: মেয়রের বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, দগ্ধ ১৫

অভিযোগের বিষয়ে জানতে গেলে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি বিজন বিশ্বাস। হরিরামপুর থানা ফায়ার সার্ভিস অফিসের ভেতরে সাংবাদিকদের ঢুকতে দেয়া হয়নি।

এদিকে বুধবার সকালে মানিকগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস বিভাগের উপসহকারী পরিচালক শরীফুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনা তদন্তে হরিরামপুরে গেছেন বলে জানা গেছে। তারা বালিরটেক বাজারে ভুক্তভোগী দোকানদারদের সাথেও কথা বলেন।

মানিকগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস বিভাগের উপসহকারী পরিচালক শরীফুল ইসলামের বক্তব্যের জন্য মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে তিনি হরিরামপুরে আছেন। এখন কোনো কথা বলতে পারবেন না।

সাইফুল বারী / একটিভ নিউজ