×
  • ঢাকা
  • সোমবার, ১৭ মে, ২০২১, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

রফিকুল ইসলাম মাদানীর মোবাইলে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ছবি-ভিডিও


একটিভ নিউজ প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২১, ০৯:৩২ পিএম রফিকুল ইসলাম মাদানীর মোবাইলে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ছবি-ভিডিও
সংগৃহীত

বুধবার রাতে নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানার লেটিরকান্দা এলাকায় তার বাড়ি থেকে আলোচিত শিশুবক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানীকে  (২৬)  আটক করে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা। তার মোবাইলে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ছবি-ভিডিও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। 

আটকের পর  রফিকুল ইসলাম মাদানীর ও তার পরিবারের কয়েকটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

র‌্যাব-১ এর সহকারী পুলিশ সুপার মুশফিকুর রহমান তুষার সংবাদ মাধ্যমকেজানান, আটক রফিকুল ইসলাম মাদানীর কাছ থেকে ৪টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। তার মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ছবি ও ভিডিওচিত্র ও লিংক পাওয়া গেছে, যা তার ভণ্ড চরিত্রের পরিচয় বহন করে।

অপরদিকে রফিকুল ইসলাম মাদানীকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে র‌্যাবের দায়ের করা মামলায় গাজীপুরের জেলা কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে ওই মামলায় গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরিফুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হলে আদালত শুনানি শেষে মাদানীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আরো পড়ুন: এবার ঢাকায় ‘শিশু বক্তা’র বিরুদ্ধে মামলা
 
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি ইলতুৎ মিশ জানান, গত বুধবার রাতে শিশুবক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানীকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানার লেটিরকান্দা এলাকায় তার বাড়ি থেকে আটক করে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা। তিনি ওই এলাকার মৃত সাহাব উদ্দিনের ছেলে। আটকের পর রফিকুল ইসলাম মাদানীকে ওই রাতেই গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানায় হস্তান্তর করা হয়। তার বিরুদ্ধে ওই থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। র‌্যাব-১-এর জেসিও-৮৭২৭ নায়েব সুবেদার (ডিএডি) মো. আব্দুল খালেক বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

ডিসি ইলতুৎ মিশ জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তাকে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরিফুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত থেকে পুলিশ ও র‌্যাবের কড়া নিরাপত্তায় প্রিজনভ্যানে করে রফিকুল ইসলাম মাদানীকে গাজীপুর জেলা কারাগার নিয়ে যাওয়া হয়। 

গাজীপুর জেলা কারাগারের সুপার মো. বজলুর রশিদ আকন্দ সংবাদ মাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে তাকে কারাগারে নেয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন: ‘শিশু বক্তা’ রফিকুলকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল র‍্যাব

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে যে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের গাছা থানাধীন বোর্ডবাজার কলমেশ্বর এলাকার শীতক ফ্যাক্টরির ভিতর এক ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য দেন রফিকুল ইসলাম মাদানী। মাহফিলে তিনি রাষ্ট্র তথা সরকারবিরোধী ও আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থি উস্কানি ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ডিজিটাল মাধ্যমে প্রদান করেন; যা তার নির্দেশে ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পায়।

উস্কানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার অনুসারীরা গত ২৬ মার্চ ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতা করে। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটে।

আরো পড়ুন: মামুনুল হকের ‘মানবিক’ বিয়েতে ভয় পেয়ে যায় রফিকুল!

এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুণ্ণ করা, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, সামাজিক তথা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্ন ঘটানো, আইনশৃঙ্খলা বিনষ্ট করা, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে শত্রুতাসহ সরকারের প্রতি ঘৃণার ভাব সৃষ্টি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে দেশের সরল ও ধর্মানুরাগী মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বক্তব্য প্রদান করেন, যা ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।    

মামলায় এজাহার আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি বিভিন্ন সময়ে দেশ ও সমাজের জন্য ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এরূপ উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলাসহ জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন। তিনি বাংলাদেশের স্বার্থ পরিপন্থি বিভিন্ন অপতৎপরতায় লিপ্ত থেকে ধর্মীয় অর্থাৎ কোরআন হাদিসের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে উস্কানি দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন।

সাইফুল বারী / একটিভ নিউজ