×
  • ঢাকা
  • বুধবার, ১৯ মে, ২০২১, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

শামসুর রেহমানের নিথর দেহ বাথরুমের সামনে পড়ে ছিল


একটিভ নিউজ প্রকাশিত: এপ্রিল ১৭, ২০২১, ০৬:০০ পিএম শামসুর রেহমানের নিথর দেহ বাথরুমের সামনে পড়ে ছিল
সংগৃহীত

কাজের বুয়া দরজায় বার বার কড়া নাড়ছেন সকাল ১০টায়। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে বিল্ডিংয়ের সিকিউরিটি গার্ডকে ডেকে নিয়ে আসেন তিনি। পরে কাজের বুয়া ও সিকিউরিটি গার্ডও অনেকবার কড়া নেড়ে কোনো সাড়া না পেয়ে আশপাশের ফ্ল্যাটের লোকজনকে ডেকে নিয়ে আসেন। আশপাশের লোকজনও কোনো সাড়া না পেয়ে তুরাগ থানা পুলিশকে খবর দেয়।

পরে দুপুর ১২টার পর তুরাগ থানা পুলিশের একটি দল এসে শিক্ষক ও কলামিস্ট ড. তারেক শামসুর রেহমানের ১৩০৪ নম্বর ফ্ল্যাটের দরজায় ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। ভেতরে প্রবেশ করে বাথরুমের দরজার সামনে তার নিথর দেহ দেখতে পায় পুলিশ।

উত্তরা-১৮ নাম্বার সেক্টরে রাজউকের আবাসিক প্রকল্পের দোলনচাপা ভবনের ১৩০৪ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে শনিবার (১৭ মার্চ) দুপুরে  শামসুর রেহমানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের সাথে কথা বলে এসব কথা জানা যায়।

আরো পড়ুন: মৃত্যুর আগে চিরকুটে যা লিখেছেন আত্মহত্যাকারী সেই করোনা রোগী

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের বিবরণ অনুযায়ী, বাথরুমের দরজার সামনে বমির ওপর পড়েছিল শামসুর রেহমানের মরদেহ। এ সময় তার পা ছিল বাথরুমের ভেতর। বাকি শরীর ছিল দরজার সামনে। তার শরীরে ছিল সাদা রঙের স্যান্ডো গেঞ্জি ও কালো রঙের প্যান্ট। আর তার ডান পায়ে ছিল মোজা। এছাড়া মরদেহের আশপাশে অনেক রক্তও দেখতে পান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

মাহমুদুর হোসেন রাসেল নামে শামসুর রেহমানের এক প্রতিবেশী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সকালে স্যারের সাড়া না পেয়ে বুয়া আমাদের খবর দেন। আমরা এসে দরজায় অনেক ধাক্কাধাক্কি করেও স্যারের সাড়া পাইনি। পরে পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে স্যারের ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তখন পুলিশের সাথে আমরাও ভেতরে প্রবেশ করি। ভেতরে গিয়ে দেখতে পাই, স্যারের মরদেহ বাথরুমের দরজার সামনে বমি ও রক্তের ওপর পড়ে রয়েছে। এছাড়া স্যারের ফ্ল্যাটের সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। কোনো ধরনের দৃষ্টিকটু জিনিস আমাদের চোখে পড়েনি।

আরো পড়ুন: ঝড়ে ডুবে গেল লঞ্চ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ঢালচরবাসীর

মাহমুদ হাসান মাসুম নামে আরেক প্রতিবেশী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন। আমি স্যারকে একাধিকবার শ্বাসকষ্টজনিত রোগের ওষুধ এনে দিয়েছি উত্তরা থেকে।

এদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত শামসুর রেহমানের খালাতো ভাই বদরুল আলম বলেন, তার স্ত্রী ও কন্যা সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তিনি একাই ফ্ল্যাটে থাকতেন। তার স্ত্রী এবং সন্তানের সাথে আমরা যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। এছাড়া তার আপন ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। তাদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী করণীয় আমরা ঠিক করব। তবে আমার জানা মতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

আরো পড়ুন: করোনায় আজও দেশে শতাধিক মৃত্যুর রেকর্ড

এ বিষয়ে ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উত্তরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শচীন মল্লিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, অধ্যাপক শামসুর রহমান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবে আমরা সব বিষয়কে সামনে রেখেই তদন্ত করছি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ বলা যাবে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহতের মরদেহ তার ফ্ল্যাটের মধ্যেই রয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছে। আলামত সংগ্রহ শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সাইফুল বারী / একটিভ নিউজ