×
  • ঢাকা
  • রবিবার, ১৩ জুন, ২০২১, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
Active News 24

খালেদা জিয়ার বিদেশযাত্রা আটকে যাওয়ায় যা বললেন ফখরুল


একটিভ নিউজ প্রকাশিত: মে ৯, ২০২১, ১০:৩৯ পিএম খালেদা জিয়ার বিদেশযাত্রা আটকে যাওয়ায় যা বললেন ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, করোভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে অনুমতি না দেয়ায় বিএনপি হতাশ ও ক্ষুব্ধ।

এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে রবিবার (০৯ মে) রাতে  তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া অক্সিজেন ছাড়াই শ্বাস নিচ্ছেন। তবে বেগম জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এটা প্রতিহিংসামুলক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ বলেও উল্লেখ করেন ফখরুল।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, যে ধারায় বেগম জিয়ার সাজা স্থগিত করা হয়েছে সেই ধারাতেই তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিতে পারতো সরকার।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  আরও বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খুনের আসামিরা সাজা মওকুফের সুযোগ পেলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী হয়েও বঞ্চিত বেগম জিয়া।

এর আগে বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, খালেদা জিয়ার পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে তার সাজা মওকুফ ছাড়া তাকে বিদেশ পাঠানো যাবে না।

এ মতামত অনুযায়ী খালেদা জিয়ার পরিবারের আবেদন মঞ্জুর হবে না, এ সিদ্ধান্ত তার পরিবারকে জানিয়ে দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, তিনি আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে জেলে আছেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৪০১ এর ১ ফৌজদারি আইন অনুযায়ী তার দণ্ডাদেশ স্থগিত করে তার সুবিধামতো চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আরও বলেন, বর্তমানে খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এরমধ্যে তার ছোট ভাই বিদেশে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। আমরা সেটা আইনমন্ত্রণায়ের মতামতের জন্য সেখানে পাঠিয়েছিলাম।

আসাদুজ্জামান খান কামাল আরও বলেন, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয় থেকে মত আসছে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে ৪০১ ধারায় সাজা স্থগিত করে যে চিকিৎসা সুযোগ দেয়া হয়েছে, এটা দ্বিতীয়বার করা সম্ভব না। মানে তার সাজা আবার মওকুফ করে বিদেশ পাঠানোর কোনো সুযোগ নেই।

এর আগে, একইদিন সকালে আইন সচিব গোলাম সারওয়ার জানিয়েছেন, আইন মন্ত্রণালয়ের দেয়া মতামতের কপি সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে। পরে সিদ্ধান্তের জন্য তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিদেশে চিকিৎসা করতে যাওয়ার আবেদনটি করেন বুধবার (০৬ মে) রাত ৮টায়  খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার। এরপর আবেদনটির আইনি দিক পর্যালোচনার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর তিনদিন পর রোববার মতামত দিল আইন মন্ত্রণালয়। তবে এখনো সরকারের গ্রিন সিগন্যাল মেলেনি।

এদিকে শনিবার তার চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা একটু ভালো। তৃতীয় দফা টেস্টে তার করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। 

সাইফুল বারী / একটিভ নিউজ