• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ, ২০২১, ২০ ফাল্গুন ১৪২৭
Active News 24

‘নৌকায় ভোট না দিলে কেন্দ্রে আসার দরকার নাই ভোটারদের’


| ডেস্ক: প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১, ০৫:৫৮ পিএম ‘নৌকায় ভোট না দিলে কেন্দ্রে আসার দরকার নাই ভোটারদের’
সংগৃহীত

গাবতলী পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. মোমিনুল হক শিলুকে ভোট না দিলে ভোটারদের কেন্দ্রে আসার দরকার নেই বলে হুমকি দিয়েছেন বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সাজেদুর রহমান শাহীন। এছাড়াও তিনি নেতা–কর্মীদের ভাগ হয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের ‘নির্দেশ’ দিলে বলেছেন, ধানের শীষ নিয়ে যে কথা বলবে তাঁর ওপর গজব হবে।

গাবতলীর দাড়াইল বাজারে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর প্রচার কাজ উদ্বোধন করতে গিয়ে শনিবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি এ কথা বলেন। এরপর তার ২ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ামাত্রই ভাইরাল হয়।

সাজেদুর রহমান জেলার শাজাহানপুর উপজেলার খড়না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও।

এদিকে এ ঘটনা প্রকাশ পেলে গাবতলী পৌরসভায় বিএনপির সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। এরপর ভোটারদের হুমকি দেওয়ার ভিডিওর সিডিসহ মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) রিটানিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

আরো পড়ুন: কুশপুতুল পুড়িয়ে নিক্সন চৌধুরীকে ক্ষমা চাইতে বলল নোয়াখালাবাসী

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রওনক জাহান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। 

এ বিষয়ে মোছা. রওনক জাহান বলেন, মেয়র প্রার্থী মোমিনুল হকের নির্বাচনী সভায় তাঁর পক্ষে একজন নেতার ভোটারদের হুমকি দিয়ে বক্তব্যের সিডিসহ লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ভঙ্গের দায়ে নৌকার প্রার্থীসহ বক্তব্যদাতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হবে।

প্রসঙ্গত, ভাইরাল হয়ো ওই হুমকির ভিডিওতে দেখা যায়, বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষায় নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে সাজেদুর রহমান বলেন, ‘আপনারা প্রত্যেকটা ইউনিটের নেতা-কর্মীদের আনে সেন্টার ভাগ করে দিবেন। সেখানে একজনকে কমান্ডার ব্যানা (বানিয়ে) দিবেন। সেই কমান্ডারের নেতৃত্ব চলবে, সেখানে শিলুক (নৌকার প্রার্থীর ডাক নাম শিলু) ভোট দিলে সেই লোক আসবে, শিলুক ভোট না দিলে তাঁর আসার দরকার নাই।’ এ সময় নেতা-কর্মীরা ‘ঠিক ঠিক’ বলে সমস্বরে চিৎকার করেন। এরপর সাজেদুর রহমান বলেন, ‘ঘরের লোক ঘরতই থাক।’

ভিডিওতে সাজেদুর রহমান আরো বলেন, ‘কথাটা যেহেতু ঘরের ভিতর, সবাই আমার কর্মী, কর্মীদের এই কথাটা ম্যাসেজ দিলাম। এটা করবেন আপনারা?’ এ সময় নেতা-কর্মীরা সমম্বরে ‘হ্যা’ ও ‘অবশ্যই’ বলে উত্তর দিলে সাজেদুর প্রশ্ন করেন, ‘এখন কী মার খাওয়ার সময় আছে?’ নেতা-কর্মীরা ‘না’ বলে জবাব দিলে তিনি বলেন, ‘মার দেওয়ার সময় আছে। আমরা মারব ধানের শীষের মার্কা লিয়্যা যে কথা বলবে, তাঁর ওপর গজব হবে। কথাটা বুঝাতে পারছি?’

আরো পড়ুন: হ্যাঁ ভোটে পাস হলো এইচএসসির ফল প্রকাশের আইন

এসময় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এই নেতা আরও বলেন, যেভাবে গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করেছেন, সেভাবেই পৌরসভার মেয়রও করা হবে। তাঁরা মেয়রে দাঁড়িয়েছেন, মেয়র নেবেন। কথা একটাই। তারেক জিয়া এখানে দাঁড়াল, না খালেদা জিয়া দাঁড়াল, সেটা দেখার বিষয় না। নেতা-কর্মীরা যদি তাঁর নির্দেশমতো কাজ করতে পারেন তাহলে মেয়র হবে। না হলে এই গাবতলীতে কোনো প্রতিনিধি (আ. লীগ থেকে) হওয়ার সুযোগ নেই।

এদিকে নিজের বক্তব্যের বিষয়ে সাজেদুর রহমান বলেন, ধানের মধ্যে দুয়েকটা চিটা থাকে। আর গাবতলী উপজেলায় আওয়ামী লীগের অবস্থাটা অনেক চিটার মধ্যে দুয়েকটি ধান থাকার মতো। সেখানে পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার কর্মীদের চাঙা রাখতে এমন বক্তব্য দিয়েছেন। এটা নিজেদের নেতা–কর্মীদের উজ্জীবিত রাখতে রাজনৈতিক কৌশলগত বক্তব্য। নিজেদের মধ্যে ঘরোয়া সভার এই বক্তব্যের ভিডিও তাঁদেরই কোনো কর্মী–সমর্থক ছড়িয়েছেন।

অন্যদিকে এ ঘটনায় ধানের শীষের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির ওই বক্তব্যের পর নৌকার কর্মীরা ধানের শীষের কর্মীদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন, প্রচারণায় বাধাও দেওয়া হচ্ছে। 

এ নিয়ে সাধারণ ভোটাররাও শঙ্কিত বলে জানান তিনি।

একটিভ নিউজ